
ডিসি-এসপির আশ্বাসে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অবরোধ প্রত্যাহার
আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাত নিহতের ঘটনায় ছয় দফা দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা অবরোধ চলার পর চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করেন তাঁরা।
অবরোধ চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষার্থী, জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মহাসড়কের চট্টগ্রাম অংশে নিহত শিক্ষার্থীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। পরে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন।
শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বাদী হয়ে নিহতের ঘটনায় মামলা করা, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লরির চালক ও মালিককে গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া, কেডিএস ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মহাসড়কের উভয় পাশে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে লরির মালিকপক্ষের কাছ থেকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদে সড়ক পারাপার নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাস এলাকায় নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা বাড়ানো।
শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কেডিএস ডিপো কর্তৃপক্ষ মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং করে আসছে। এতে সড়কে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তাঁরা।
এর আগে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কুমিরায় অবস্থিত আইআইইউসির প্রধান ফটকের বিপরীত পাশে ডালাস পেট্রোল পাম্পসংলগ্ন মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর সকাল ১০টার পর থেকে শিক্ষার্থীরা অবরোধ শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা মহাসড়কের পাশাপাশি রেলপথও অবরোধ করেন। এতে প্রায় ২০-২৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয় এবং রেল চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
নিহত মাইশা মুশফিরাত আইআইইউসির ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। তাঁর বাড়ি মীরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বড়তাকিয়া এলাকায়। তিনি সাখাওয়াত হোসেন ও সালমা আক্তার দম্পতির মেয়ে। তিনি মীরসরাই লতিফিয়া কামিল মাদ্রাসার সাবেক ভাইস প্রিন্সিপাল নুরুন্নবী ফারুকীর নাতনী।
এ ঘটনায় আহত রাজিয়া সুলতানা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল ৯ টা ২০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মহাসড়কের পাশে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। এ সময় যাত্রী ওঠানোর জন্য ধীরগতিতে চলা চট্টগ্রামমুখী ৮ নম্বর রুটের একটি লোকাল বাসকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয় একটি ভারী লরি। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি উল্টে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ে। বাসের নিচে চাপা পড়ে মাইশাসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন ও সহপাঠীরা আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাইশা মুশফিরাতকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাপ্পি/সা.এ
মন্তব্য
0 টি মন্তব্য