আইন ও আদালত

৭ বছরের ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, অভিযুক্ত সেই মাদরাসা শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

প্রকাশিত :
রোববার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬
/
৮ বার সংবাদটি দেখেছে

গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার মাদরাসার শিক্ষক মোসলিম উদ্দিনের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে, এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ১৯ অক্টোবর সোমবার টঙ্গীর ওই মাদরাসার নিচতলার সিঁড়িতে প্রথম শ্রেণির ছাত্রীটিকে যৌন নিপীড়ন করা হয় বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। ঘটনার পর শিশুটি মাদরাসায় যেতে চাইছিল না। পরিবারের সদস্যরা কারণ জানতে চাইলে প্রথমে সে কিছু বলেনি। পরে মা-বাবার জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার কথা জানায়।

এরপর ২১ অক্টোবর দুপুরে শিশুটির স্বজনেরা মাদরাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজনও সেখানে জড়ো হন। এ সময় শিক্ষককে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

ঘটনার তদন্তে পুলিশ মাদরাসা পরিদর্শন করে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি ঘটনার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্যও নেয়া হয়েছে।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত এখনও চলমান।

গাজীপুর মহানগর আদালতের পরিদর্শক আহসানুল্লাহ চৌধুরী জানান, শিশুটি আদালতের বিচারকের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে। বিচারক তার বক্তব্য জবানবন্দি হিসেবে রেকর্ড করেছেন।

এ দিকে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর, মাদরাসায় ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ নিয়ে শিশুটির পরিবার ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে।

মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেনের অভিযোগ, শিশুটির বাবার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল মাদরাসায় ঢুকে শিক্ষককে মারধর করে। তাকে রক্ষা করতে গেলে অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও নিরাপত্তাকর্মীরাও মারধরের শিকার হন। এ সময় মাদরাসার কার্যালয় ভাঙচুর এবং ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মুঠোফোন লুট করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। এসব অভিযোগে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ থানায় পৃথক অভিযোগ দিয়েছে।

অন্যদিকে শিশুটির বাবা দাবি করেছেন, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতেই তিনি মাদরাসায় গিয়েছিলেন, কোনও ধরনের মব সৃষ্টি করতে নয়। মাদরাসায় ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তিনি। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি মেয়ের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও পরিবারের নিরাপত্তা দাবি করেছেন তিনি।

শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ ও মারধরের ঘটনার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, দুই পক্ষের অভিযোগ ও ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।



সালাউদ্দিন/সাএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *