সারাবিশ্ব

নেতানিয়াহুকে হটাতে আইজেনকটকে সমর্থন লিবারম্যানের

প্রকাশিত :
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬
/
২ বার সংবাদটি দেখেছে

ইসরায়েলের বিরোধী দলগুলোর প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে গাদি আইজেনকটকে সমর্থন দিয়েছেন আভিগদর লিবারম্যান। তবে আরব দলগুলোর বাইরে থেকে সমর্থন নিয়ে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন তিনি।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিরোধী জোটের প্রার্থী গাদি আইজেনকটকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিত ইয়িসরায়েল বেইতেনু পার্টির নেতা আভিগদর লিবারম্যান। তবে আরব আইনপ্রণেতাদের বাইরে থেকে সমর্থন নিয়ে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছেন তিনি।

সোমবার (২ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে লিবারম্যান বলেন, তিনি সরাসরি আইজেনকটকে জানিয়েছেন, পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁকে সমর্থন দেবে তাঁর দল। তবে আরব দলগুলোর সমর্থনে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের কোনো সুযোগ নেই।

লিবারম্যান বলেন, ‘সংখ্যালঘু সরকারের বিষয়ে আমি স্পষ্ট করে দিয়েছি, এটি হবে না।’ এ ধরনের সরকার বেশি দিন টিকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় আরব দলগুলোর সঙ্গে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ করেন লিবারম্যান।

গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের প্রায় এক সপ্তাহ পর ইসরায়েলে সরকার গঠনের হিসাব-নিকাশ নতুন করে শুরু হয়েছে। ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলোর মোট আসন ৬৭। তবে এর মধ্যে ইহুদিদের নেতৃত্বাধীন দলগুলোর আসন ৪৮ এবং আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর আসন ১৯। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর বিদায়ী জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন।

ইহুদিদের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলো এখন আইজেনকটের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাদের নেই। এ পরিস্থিতিতে বৃহত্তম আরব দল জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসুফ জাবারিন আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাবারিন বলেন, নেতানিয়াহুর কট্টরপন্থী সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে তাঁদের দল বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে প্রস্তুত।

তিনি বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমি আশা করি, বিরোধী শিবিরের মধ্যে এ বিষয়ে এগিয়ে যাওয়ার মতো অংশীদার পাওয়া যাবে।’

তবে পশ্চিম তীরের ওপর ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকায় আইজেনকটের জোট সরকারে যোগ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই জয়েন্ট লিস্টের। দলটির ১১ জন নবনির্বাচিত আইনপ্রণেতা বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন।

লিবারম্যান অবশ্য আইজেনকটের নির্বাচনী প্রচারণারও সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর বৃহত্তর লক্ষ্যকে গুরুত্ব না দিয়ে আইজেনকট নিজের দল ইয়াশারের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

লিবারম্যান বলেন, ‘আমরা ব্যর্থ হয়েছি। ৪৮টি আসন আমাদের প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম।’ আইজেনকটের প্রচারণাকে তিনি আত্মকেন্দ্রিক বলেও মন্তব্য করেন।

এদিকে লিবারম্যান স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো পরিস্থিতিতেই তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরকার গঠন করবেন না। এমনকি প্রধানমন্ত্রী পদে পালাক্রমে দায়িত্ব পালনের সমঝোতা হলেও তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে কাজ করবেন না বলে জানান।

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ আগামী বুধবার থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক শুরু করবেন। নতুন সরকার গঠনের জন্য কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি। আরেক দফা নির্বাচন এড়াতে সব পক্ষকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।

এদিকে আইজেনকটের বাড়ির সামনে নেতানিয়াহুপন্থীদের বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিক্ষোভে এক ব্যক্তি আইজেনকটকে তাঁর ছেলের মৃত্যুর জন্য দায়ী করে স্লোগান দেন। তাঁর স্ত্রীকেও হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় আইজেনকটের দল ইয়াশার নেতানিয়াহুর শিবিরের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দায়ী করেছে।

সব মিলিয়ে নির্বাচনে নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও আরব দলগুলোর সমর্থন গ্রহণ নিয়ে বিরোধীদের মধ্যে মতপার্থক্য সরকার গঠনের প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে।

সূত্র- timesofisrael



সাজু/নিএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *