জেলার খবর

খানাখন্দ ও ডোবায় চরম দুর্ভোগে বাসিন্দারা

প্রকাশিত :
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
/
১১ বার সংবাদটি দেখেছে

নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, পৌর এলাকার খানেরপুর থেকে বালিয়ামোর পর্যন্ত বিস্তৃত সড়কের বিভিন্ন স্থানে আট ইঞ্চি থেকে দেড় ফুট পর্যন্ত গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে সড়কগুলো ছোটখাটো ডোবা বা পুকুরে পরিণত হয়।

দুর্ভোগের চিত্র শুধু একটি সড়কে সীমাবদ্ধ নয়। জনতা প্রাণ গেট থেকে ঘোড়াশাল বাজার সড়ক, ঘোড়াশাল পোস্ট অফিস থেকে চামড়াব সড়ক, পাইকশা থেকে বালুরচর পাড়া হয়ে ওয়াপদা গেট সড়ক, ঘোড়াশাল বাইপাস থেকে মিয়াপাড়া হয়ে ঘোড়াশাল বাজার সড়ক, ঘোড়াশাল থেকে পলাশ বাজার, পাইশকা মোড় এবং কামারটেকগামী সড়কগুলোতে নিয়মিত যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এসব সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেন। অঞ্চলটিতে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানা এবং দেশবন্ধু সুগার মিলসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের ভারী পণ্যবাহী যানবাহন নিয়মিত চলাচল করে। সড়কগুলোর বেহাল দশার কারণে পণ্য পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে এবং যানবাহন বিকল হচ্ছে।

পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পাইশকা গ্রামের বাসিন্দা এস কে দেবনাথ সমির বলেন, সড়কগুলোর করুণ অবস্থা হলেও সংস্কারের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। খানাখন্দে চাকা আটকে গাড়ি উল্টে চালক ও যাত্রীরা প্রায়ই আহত হচ্ছেন। টেঙ্গরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মাহাবুব সৈয়দ দ্রুত স্থায়ী সংস্কারের দাবি জানান। ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মেহেদী হাসান ও নজরুল ইসলাম খান জানান, বালিয়া থেকে ফৌজী রাস্তা হয়ে পলাশ রাস্তার একাধিক অংশে বড় বড় গর্তের কারণে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

এ বিষয়ে ঘোড়াশাল পৌরসভার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী মো. আবু ওবায়েদ বলেন, পৌরসভার মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী একটি পরিকল্পিত ও টেকসই ড্রেনেজ ও রাস্তা নেটওয়ার্ক তৈরির প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ঘোড়াশাল পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক ও পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদ জানান, পুরো পৌরসভা নিয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান করা হচ্ছে এবং প্রায় ৫০ কোটি টাকার একটি ডিপিপি (DPP) স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে। তিনি বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য বর্তমানে ওই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকায় প্রকল্পটি দ্রুত অনুমোদনের বিষয়ে আশাবাদী। অনুমোদন পেলে রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে।



কুশল/সাএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *