অর্থ ও বাণিজ্যকৃষি

জামালপুরের মাদারগঞ্জে মরিচ চাষে কৃষকদের বাজিমাত

প্রকাশিত :
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬
/
১৭ বার সংবাদটি দেখেছে

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় আগাম মরিচ চাষ করে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন চরাঞ্চলের দরিদ্র কৃষকেরা।

অনুকূল আবহাওয়া ও মাটি উপযোগী হওয়ায় এ উপজেলায় বাড়ছে মরিচের আবাদ। ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারে কাঁচা মরিচের চড়া দাম পাওয়ায় কৃষকদের মুখে ফুটেছে তৃপ্তির হাসি। মরিচ চাষে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফিরছে কৃষক পরিবারগুলোয়। ফলে অন্য কৃষকেরাও মরিচ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৭৫০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে ইতিমধ্যে ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩০০ হেক্টর বেশি। এর মধ্যে আগাম মরিচ চাষ হয়েছে ৩০০ হেক্টর জমিতে। এ ছাড়া পলিমালচিং পদ্ধতিতে ২৫ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ করেছেন কৃষকেরা। উপজেলায় ময়নামতি, গ্রিন সুপার, নাগা ফায়ার, বিজলি, গ্রিন স্টার, সুপার ও প্রিমিয়ামসহ বিভিন্ন জাতের মরিচের আবাদ হয়েছে। এ মৌসুমে আবাদ আরও বাড়তে পারে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।

সরেজমিনে দেখা যায়, চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে মরিচের আবাদ। গাছে গাছে ধরতে শুরু করেছে কাঁচা মরিচ। কোথাও কৃষকেরা মরিচ তুলছেন, কোথাও করছেন গাছের পরিচর্যা। আবার কেউ কেউ জমিতে কীটনাশক স্প্রে করছেন। আগাম আবাদ করা ৩০০ হেক্টর জমি থেকে ইতিমধ্যে মরিচ সংগ্রহ শুরু হয়েছে। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও মরিচ তোলার কাজে অংশ নিচ্ছেন।

উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের সুখনগরী এলাকার কৃষক চান মিয়া বলেন, ৪৪ শতাংশ জমিতে আগাম মরিচ চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। ইতিমধ্যে জমি থেকে মরিচ তোলা শুরু করেছি। পাইকারি বাজারে মরিচের ভালো দাম পাচ্ছি।

মরিচচাষি আজাদুল ইসলাম বলেন, পলিমালচিং পদ্ধতিতে দুই বিঘা জমিতে মরিচের আবাদ করেছি। ময়নামতি জাতের মরিচ চাষ করেছি। গাছে গাছে ফুল আসতে শুরু করেছে। গত বছরের তুলনায় এবার মরিচ চাষে খরচ বেড়েছে। জমি চাষ, সেচ, বীজ, সার-কীটনাশক, যাতায়াত ও শ্রমিকের মজুরি বাবদ বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে।

জোড়খালী ইউনিয়নের ফুলজোড় এলাকার মরিচচাষি ইউনুস আলী বলেন, পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে দাম ১২০ টাকা। এক বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছি। ইতিমধ্যে ২০ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি করেছি। এ পর্যন্ত জমিতে খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। বাজারে দাম ভালো থাকলে এ জমি থেকে প্রায় লাখ টাকার মরিচ বিক্রির আশা করছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হাবিবুর রহমান বলেন, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে মরিচের আবাদ হওয়ায় এবার উপজেলায় কাঁচা মরিচের উৎপাদন ৪২ হাজার মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যেতে পারে। মাদারগঞ্জের চাহিদা মিটিয়ে উৎপাদিত মরিচ ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা।

তিনি আরও বলেন, মরিচ চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে দুই শতাধিক কৃষককে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পলিমালচিং পদ্ধতিতে মরিচ চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।



বাপ্পি/সা.এ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *