প্রধান শিরোনামবরিশালবরিশাল নগরী

বরিশালে ১৭তম মৃৎশিল্পী সম্মেলন, আজীবন সম্মাননা পেলেন নিরঞ্জন পাল

প্রকাশিত :
শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
/
১৪ বার সংবাদটি দেখেছে

দক্ষিণ টিভি | স্টাফ করেসপন্ডেন্ট : বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প সংরক্ষণ, প্রসার ও এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কারুশিল্পীদের স্বীকৃতি দিতে বরিশালে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৭তম মৃৎশিল্পী সম্মেলন ও সম্মাননা-২০২৬। এবারের আয়োজনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১৮ জন মৃৎশিল্পীকে বিভিন্ন বিভাগে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মনসুরাবাদ ইউনিয়নের প্রবীণ মৃৎশিল্পী নিরঞ্জন পাল।

 

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা ১২টায় বরিশাল নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে এ সম্মেলন ও সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের কনিষ্ঠপুত্র ও শিল্পানুরাগী প্রকৌশলী ময়নুল আবেদিন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।

 

সম্মেলনের শুরুতে শিশুদের জন্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পরে অনুষ্ঠিত হয় মৃৎশিল্পী সম্মেলন ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মৃৎশিল্পের ঐতিহ্য, বৈচিত্র্য ও কারুশৈলী তুলে ধরা হয়।

 

অনুষ্ঠান উপলক্ষে মৃৎশিল্পীদের তৈরি বিভিন্ন ধরনের মাটির পাত্র, মনসার ঘট, পুতুল, শখের হাঁড়ি, মাটির খেলনা ও অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী শিল্পসামগ্রী প্রদর্শন করা হয়। এসব শিল্পকর্মের মধ্য দিয়ে বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও মৃৎশিল্পের দীর্ঘ ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে গবেষক, শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

 

সম্মেলনে সম্মাননা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন অংশগ্রহণকারী মৃৎশিল্পীরা। একই সঙ্গে সময়ের পরিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসা এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি উদ্যোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর দাবি জানান তাঁরা।

 

দর্শনার্থীরা বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আয়োজিত এ সম্মেলন নতুন প্রজন্মকে মাটির শিল্প ও বাংলার ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের হারিয়ে যেতে বসা লোকজ শিল্পের সঙ্গে পরিচিত করাতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

 

অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, মৃৎশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে শুধু সম্মেলন আয়োজন যথেষ্ট নয়; দৈনন্দিন জীবনে মাটির তৈরি পণ্যের ব্যবহারও বাড়াতে হবে। পাশাপাশি শিল্পীদের পৃষ্ঠপোষকতা এবং ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পের প্রচারে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তাঁদের মতে, এ ধরনের আয়োজন মৃৎশিল্পের পরিচিতি বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্যে এ শিল্পের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করবে।



মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *