সারাবিশ্ব

মুসলিমদের ‘মোহাম্মদ’ নাম নিয়ে ট্রাম্পের ব্যঙ্গ

প্রকাশিত :
শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
/
১৪ বার সংবাদটি দেখেছে

মুসলিম বিশ্বে ‘মোহাম্মদ’ নামের ব্যাপক প্রচলন নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ডালটনে এক নির্বাচনি সমাবেশে ইরানের প্রেসিডেন্ট প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। তবে তাঁর কৌতুকে উপস্থিত জনতার কাছ থেকে তেমন সাড়া মেলেনি। খবর রয়টার্সের।

ডালটন মিউনিসিপ্যাল বিমানবন্দরের একটি বিমানের হ্যাঙ্গারে আয়োজিত ওই সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের কারও নাম নিয়ে সন্দেহ হলে তাঁকে ‘মোহাম্মদ’ বলে ডাকলেই ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হ্যালো, মোহাম্মদ’। তাঁর দাবি, বছরের পর বছর ধরে তিনি এভাবে নাম ধরে ডেকে আসছেন এবং কখনো ভুল হয়নি।

মুসলিম বিশ্বে ‘মোহাম্মদ’ পুরুষদের অন্যতম প্রচলিত নাম। ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নাম অনুসরণ করে বহু মুসলিম পরিবার তাঁদের ছেলেসন্তানের নাম এ নামে রাখেন।

আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালাতে জর্জিয়ায় যান ট্রাম্প। সমাবেশে ইরানের প্রেসিডেন্ট পদ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ইরানই একমাত্র দেশ, যেখানে কেউ প্রেসিডেন্ট হতে চায় না।’

এরপর কয়েকজন ‘মোহাম্মদ’ নামের ব্যক্তিকে কাল্পনিকভাবে প্রশ্ন করার ভঙ্গি করেন ট্রাম্প। তাঁরা ইরানের প্রেসিডেন্ট হতে চান কি না, এমন প্রশ্নের অবতারণা করে তিনি তাঁর বক্তব্যে রসিকতা যোগ করেন। ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ২০২৪ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যে সমাবেশে উপস্থিত মানুষের প্রতিক্রিয়া ছিল অনেকটাই ম্লান। মুসলিমদের মধ্যে প্রচলিত একটি নাম নিয়ে তাঁর এমন রসিকতা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

এর আগেও ট্রাম্পের বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা করেছেন মানবাধিকারকর্মী ও মুসলিম অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো। তাদের অভিযোগ, তাঁর বক্তব্যে মুসলিম, অভিবাসী ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয় এবং তাঁদের নিয়ে বিদ্রূপ করা হয়।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচার চলাকালে ট্রাম্পের এ ধরনের বক্তব্য আরও জোরালো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে সোমালি বংশোদ্ভূত ও মুসলিম মার্কিন নাগরিকদের নিয়ে তাঁর মন্তব্য সমালোচনার মুখে পড়েছে।

ট্রাম্পের সমালোচনার তালিকায় রয়েছেন মুসলিম ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ এবং মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ইলহান ওমর। সোমালিয়া থেকে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ইলহান ওমর বর্তমানে দেশটির কংগ্রেসের সদস্য।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রকাশিত এক বার্ষিক প্রতিবেদনে দেশটিতে ইসলামবিদ্বেষ বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরে। প্রতিবেদনে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে কঠোর অভিবাসননীতি এবং ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ দমনের উদ্যোগকে ইসলামবিদ্বেষ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যটি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনি রাজনীতিতে মুসলিম ও অভিবাসী সম্প্রদায়কে ঘিরে চলমান বিতর্ককে আবারও সামনে এনেছে।



কুশল/সাএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *