স্পোর্টস

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বিদ্বেষমূলক আক্রমণের শিকার আর্জেন্টিনা

প্রকাশিত :
শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬
/
১৯ বার সংবাদটি দেখেছে

ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল শেষ হওয়ার প্রায় তিন মাস পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিদ্বেষমূলক বার্তা নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিদ্বেষমূলক আক্রমণের শিকার হয়েছে আর্জেন্টিনা। টুর্নামেন্টে দলটি যত এগিয়েছে, তাদের ঘিরে অনলাইনে বিদ্বেষের মাত্রাও তত বেড়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রাক্কালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সুরক্ষা পরিষেবা (এসএমপিএস) পরিচালিত গবেষণাটিতে ২০২৬ সালের ৯ জুন থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এ সময় এক্স, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও টিকটক থেকে সংগৃহীত ১ কোটি ৭১ লাখের বেশি পোস্ট ও মন্তব্য পর্যালোচনা করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদ্বেষমূলক আক্রমণের শিকার হওয়ার তালিকায় আর্জেন্টিনার পর রয়েছে ইংল্যান্ড, স্পেন, ব্রাজিল ও নরওয়ে। আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিকে লক্ষ্য করে করা আক্রমণগুলোর বড় একটি অংশে ছিল রেফারিদের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ।

অন্যদিকে, খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণের ক্ষেত্রে ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও পর্তুগালের পর চতুর্থ অবস্থানে ছিল আর্জেন্টিনা। দেশটির খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে চালানো আক্রমণের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল বর্ণবাদ। বিশেষ করে কয়েকজন খেলোয়াড়ের আফ্রিকান বংশোদ্ভূত পরিচয়কে কেন্দ্র করে এ ধরনের বিদ্বেষমূলক বার্তা ছড়ানো হয়।

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি অনলাইন হয়রানির শিকার হওয়া খেলোয়াড়ের নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই খেলোয়াড় বর্ণবাদ, সমকামী-বিদ্বেষ, লিঙ্গবৈষম্য ও রূপান্তরকামী-বিদ্বেষের শিকার হয়েছেন।

বিদেশি-বিদ্বেষমূলক আক্রমণের প্রধান লক্ষ্য ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। অভিবাসন, জাতীয় পরিচয় এবং দল গঠনের ধরনকে কেন্দ্র করে এসব আক্রমণ চালানো হয়। তবে বিদ্বেষ ছড়ানোর ক্ষেত্রেও আর্জেন্টিনার অবস্থান ছিল উল্লেখযোগ্য। বর্ণবাদী বার্তা পাঠানোর তালিকায় শীর্ষে ছিল দেশটি।

এদিকে, সাধারণ ধরনের বিদ্বেষমূলক আক্রমণের সংখ্যায় সবার ওপরে ছিল ইউরোপ। এ তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল দক্ষিণ আমেরিকা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বকাপে সবচেয়ে গুরুতর হুমকির মুখে পড়েছিলেন ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারিরা। তাঁদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করে হয়রানি বাড়ানোর চেষ্টা, যা ‘ডক্সিং’ নামে পরিচিত, তার অধিকাংশ ঘটনার শিকার হয়েছেন তাঁরা।

রেফারিদের বিরুদ্ধে এসব আক্রমণের পেছনে প্রধানত কাজ করেছে দুর্নীতি ও ম্যাচ পাতানোর সন্দেহ। ম্যাচ পরিচালনা নিয়ে অসন্তোষ থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের চেষ্টা—বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন তাঁরা।



কুশল/সাএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *