
শরীয়তপুরের কাঁচিকাটায় নদীভাঙন রোধে মানববন্ধন, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার কাঁচিকাটা ইউনিয়নে ভয়াবহ নদীভাঙন রোধে মানববন্ধন করেছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলার কাঁচিকাটা ইউনিয়নের নদীভাঙনকবলিত এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। এ সময় নদীভাঙন থেকে কাঁচিকাটা ইউনিয়নকে রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পদ্মা নদীর ভাঙনে কাঁচিকাটার বসতবাড়ি, ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। প্রতিবছর ভাঙনের কারণে নতুন নতুন এলাকা হুমকির মুখে পড়ছে। ফলে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, নদীভাঙনের কারণে শুধু মানুষের বসতভিটাই নয়, তাদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎও হুমকির মুখে পড়ছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে একসময় কাঁচিকাটার অনেক এলাকা মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দ্রুত নদীর তীর সংরক্ষণ করে স্থায়ীভাবে ভাঙন বন্ধ করার দাবি জানান তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা বাহাদুর সরদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা নদীভাঙনের সঙ্গে যুদ্ধ করে বসবাস করছেন। একের পর এক বসতবাড়ি ও জমি নদীতে চলে যাচ্ছে। এখন আর সাময়িকভাবে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর ব্যবস্থা নয়, তারা চান স্থায়ী সমাধান।
তিনি বলেন, “আমাদের কাঁচিকাটা যদি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়, তাহলে আমরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিসে গিয়ে বাসাবাড়ি করে থাকব। তারা যদি দ্রুত নদীভাঙন রোধের ব্যবস্থা না করেন, তাহলে আমাদের সামনে আর কোনো পথ থাকবে না।”
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা কায়কোবাদ মোল্লা বলেন, নদীভাঙনের কারণে প্রতিনিয়ত মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। কখন কার ঘরবাড়ি নদীতে চলে যায়, সেই শঙ্কায় থাকতে হচ্ছে। তিনি কাঁচিকাটার নদীতীর রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নদীভাঙনের কারণে এরই মধ্যে অনেক পরিবার বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়েছে। আগেও কাঁচিকাটা এলাকায় নদীভাঙনে বসতবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর এসেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কাঁচিকাটার উত্তর মাথাভাঙা মান্নান সরকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনও পদ্মায় বিলীন হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। এদিকে কাঁচিকাটা ইউনিয়নটি পদ্মা নদীবেষ্টিত হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে স্থানীয়রা ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। ২০২৫ সালেও কাঁচিকাটায় ভিটেমাটি রক্ষা ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন হয়েছিল।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের শরীয়তপুর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভেদরগঞ্জ উপজেলায় পদ্মা নদীর ভাঙন রোধে নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য নদীভাঙন থেকে নির্দিষ্ট এলাকা রক্ষা করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ তীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা।
তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্প বা সাময়িক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও কাঁচিকাটার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে দ্রুত ও কার্যকরভাবে রক্ষায় আরও উদ্যোগ প্রয়োজন। তাদের প্রত্যাশা, নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধানে পরিকল্পিত ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে।
বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য জানতে শরীয়তপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মিলটন হোসেন এর সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
মানববন্ধন থেকে দ্রুত কাঁচিকাটা ইউনিয়নের নদীতীর রক্ষা, স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং ভাঙনকবলিত মানুষের জানমাল ও বসতভিটা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
বাপ্পি/সা.এ
মন্তব্য
0 টি মন্তব্য