আইন ও আদালত

এমপিওভুক্ত হাইস্কুলে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে আইনি জটিলতা নিরসন

প্রকাশিত :
মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬
/
১৫ বার সংবাদটি দেখেছে

এমপিওভুক্ত হাইস্কুলে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত নিয়ে তৈরি আইনি জটিলতা আপাতত কেটে গেছে। এ বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মোহাম্মদ রেজাউল হকের আদালত।

এর ফলে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রার্থীদের প্রধান শিক্ষক পদে আবেদন করার সুযোগ দিয়ে সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তই বহাল থাকছে। পাশাপাশি ইতোমধ্যে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী পরীক্ষায় অংশ নিতে আর কোনো আইনি বাধা থাকছে না।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের পক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এনটিআরসিএর করা আপিলের শুনানি শেষে চেম্বার আদালত এ আদেশ দেন।

চলতি বছরের ২৫ মার্চ সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক পদে আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতার সময়সীমা ১৮ বছর নির্ধারণ করা হয়। পরে ওই সিদ্ধান্ত বাতিল করে রায় দেন হাইকোর্ট। এর বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনটিআরসিএ আপিল করলে মঙ্গলবার শুনানি শেষে হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেন চেম্বার বিচারপতি।

ফলে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রার্থীদের প্রধান শিক্ষক পদে আবেদন করার সুযোগ রেখে সরকারের চালু করা বিধি কার্যকর থাকছে। এর আগে অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হয়েছেন, তারাও আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া সংশ্লিষ্ট পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

১৩ হাজারের বেশি পদ শূন্য

দেশের শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীনে প্রধান শিক্ষক পদে ১০ হাজার ২৭৮টি শূন্য পদ ছিল।

এ ছাড়া কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে অধ্যক্ষ ও সুপার পদে প্রায় ১৫০টি এবং মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার ও সহকারী সুপারসহ বিভিন্ন পদে ৩ হাজার ১৩১টি পদ শূন্য ছিল। সব মিলিয়ে ওই সময়ে শূন্য পদের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৩ হাজার ৫৫৯টি।

চেম্বার আদালতের আদেশের ফলে মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় তৈরি হওয়া জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা কাটানোর পথ খুলেছে। তবে হাইকোর্টে রিট করা ৪৬ জন আবেদনকারীর জন্য ৪৬টি পদ সংরক্ষণ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন চেম্বার বিচারপতি।

ফলে ওই ৪৬টি পদ বাদ দিয়ে বাকি শূন্য পদগুলোতে নিয়োগপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পারবে সরকার। এ ক্ষেত্রে আপাতত কোনো আইনগত বাধা থাকছে না।

এর ফলে আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পরবর্তী পরীক্ষার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে চেম্বার আদালতের আদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



কুশল/সাএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *