জেলার খবর

ফের প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেপ্তার ‘সাইকো ইসমাইল’

প্রকাশিত :
রোববার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬
/
১০ বার সংবাদটি দেখেছে

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পূজা মণ্ডপের ০৬টি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় ইসমাইল হোসেন (৩৫) কে প্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মাস ছয়েক পূর্বে আরেকটি মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। বর্তমান ওই মামলায় জামিনে থাকা অবস্থায় পুনরায় আরেকটি মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযুক্ত হয়ে গ্রেপ্তার হলেন তিনি। ৩রা অক্টোবর টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে প্রেস রিলিজের মাধ্যমে তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর দিনগত রাতের কোন এক সময় উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের জামুর্কী পশ্চিমপাড়া আর্য সমিতি পূজা মন্ডপে এই প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ১লা অক্টোবর মন্দিরটির সভাপতি প্রকাশ বাকালী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের বিবাদী করে থানায় মামলা দায়ের করেন।

গ্রেপ্তার ইসমাইল হোসেন উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের জামুর্কী পশ্চিমপাড়া গ্রামের কবির মিয়ার ছেলে বলে জানা গেছে।

এদিকে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় ইসমাইল হোসেন সম্পর্কে এলাকায় খোঁজ নিয়ে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। এলাকায় তিনি সাইকো ইসমাইল নামে পরিচিত। অনেকটা মানসিক বিকারগ্রস্ত ইসমাইল ভবঘুরের মতো এলাকায় বসবাস করেন। যে কারও বিপদে আপদে ডাকলেও তিনি সহযোগিতার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন। ইচ্ছে হলে কাজ করেন, ইচ্ছে না হলে করেন না। চুপচাপ থাকেন আবার হঠাৎ রেগে যান।

ইসমাইল এধরনের কাজ করতে পারেন তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী প্রকাশ বাকালী। এলাকায় তাকে কখনো হিন্দু বিদ্বেষী হিসেবেও দেখা যায়নি বলেও জানান তিনি। পূর্বের ঘটনায় পুলিশ দেখে দৌঁড়ে পালানোয় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গ্রেপ্তার ইসমাইল হোসেনের চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, মানসিক বিকারগ্রস্ততার কারনে এখনো ইসমাইলের সংসার করা হয়নি। তার এক বোনও অনেকটা মানসিক বিকারগ্রস্ত। ইসমাইল এধরনের কাজ করতে পারেন তা এলাকার কেউ বিশ্বাস করবেনা। এমনকি যাদের প্রতিমা ভাঙচুর হয়েছে তারাও না।

এলাকাবাসীর দাবি- শুধুমাত্র ঘটনা ধামাচাপা দিতে নয়, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যেন প্রকৃত আসামীকে আইনের আওতায় আনা হয় এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হয়। যাতে ভবিষ্যতে কেউ এধরনের ঘটনা না ঘটাতে পারে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ পরিদর্শক শাখাওয়াত ইমতিয়াজ বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এধরনের ঘটনায় পূর্বেও গ্রেপ্তারের নজির রয়েছে। তার মানসিক অবস্থার কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। এবিষয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হলে বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। তাকে ৭ দিনের রিমাণ্ড আবেদন করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আগামী ৬ অক্টোবর শুনানী হবে।



কুশল/সাএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *