জেলার খবর

দোহারে চাঞ্চল্যকর জোড়া খুন মামলার আসামীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশিত :
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
/
১১ বার সংবাদটি দেখেছে

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার চাঞ্চল্যকর জোড়া খুন মামলার আসামীদের বাদ দিয়ে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেছেন ঢাকা জেলার সিআইডি পুলিশ পরিদর্শক মোঃ নুরু উদ্দিন জাহেদ চৌধুরী। মূল আসামীদের বাদ দিয়ে উৎকোচ নিয়ে সিআইডি পুলিশ পরিদর্শকের আদালতে চার্জশীট দাখিলের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেন নিহতদের পরিবারের সদস্যরা।

আজ সোমবার ২৮শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ইং সকালে রাজধানী ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন করেন নিহতের মা, বোন, ভাইসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা

তারা বলেন, ২০২১ইং সালের ২০ এপ্রিল চাকরি দেয়ার কথা বলে একাধিক হত্যা মামলার আসামী রাজন খান, পিতা- শাহজাহান খান, সাজ্জাদ মোল্লা, চঞ্চল মোল্লা, সোহাগ বেপারী, মারুফ, এমদাদুল হক, সাদ্দাম বেপারী, সেলিম বেপারী, মনির হোসেন, কাউসার মোল্লাসহ আরও ৩ থেকে ৪ জন মিলে সাইদুল, মিজান ও সোহেলকে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বাড়ি থেকে মাওয়া ঘাটে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ।

প্রথমে হাত-পা বেঁধে ও পরে গুলি করে হত্যার পর লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেয়। গত ৬ বছর অতিবাহিত হলেও তাদের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। এ ঘটনার পর সাইদুলের মা রাজিয়া বেগম বাদী হয়ে দোহার থানায় এজাহার দিলেও ফ্যাসিস্ট আমলে প্রভাবশালীদের কারণে তখন আমলে নেয়নি। ৩ মাস পরে আদালতে প্রথমে ২ জনকে আসামী করে এজাহার দায়ের করেন। কুখ্যাত খুনী সাজ্জাদ মোল্লা ও চঞ্চল মোল্লার নামে আদালতে মামলা হয়। মামলাটি সিআইডির তদন্তে আরও ৮ জনের সম্পৃক্ততা পায়। এরমধ্যে ১০ আসামীর মধ্যে ৮ জনকে গ্রেফতার করে। আসামীরা বিভিন্ন সময়ে আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে নানা ধরনের হুমকী ও মামলা তুলে নেয়ার ভয় দেখায়।

খুনী সাজ্জাদ মোল্লা ও চঞ্চল মোল্লা ছাড়াও গ্রেফতারকৃতরা সবাই ১৬৪-এ হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। সোহেল ও সাইদুল মৃধাকে তারা পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর ধামাচাঁপা দেয়ার জন্য সেসময় খুনীরা পুলিশকে ম্যানেজ করে। যার কারণে থানায় মামলাটি নিতে অপারগতা প্রকাশ করে। খুনীরা লাশ গুম করার কারণে অদ্য পর্যন্ত পুলিশ তাদের কোনো হদিস খুঁজে পায়নি। ১৬৪ ধারায় গ্রেপ্তারকৃত সবাই খুনের কথা স্বীকার করলেও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশ মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে প্রকৃত ২ খুনীকে বাদ দিয়ে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। এ ঘটনার পর বাদী রাজিয়া বেগম আদালতে একটি নারাজী পিটিশন দায়ের করেন। এরই প্রেক্ষিতে আদালত পুনরায় পিবিআই দিয়ে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন।

বর্তমানে মামলাটি পিবিআইতে তদন্তাধীন। গত কয়েক দিন আগে মূল হত্যাকারী রাজন খানকে ঢাকার এয়ারপোর্ট থেকে পিবিআই পুলিশ গ্রেফতার করে। বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে। এ ব্যাপারে আমি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যে, যাতে খুনীরা কোনমতেই যাতে পার পেয়ে যেতে না পেরে এবং তাদের অব্যাহত হুমকী থেকে রক্ষা পেতে আজকের মানববন্ধন ।



সালাউদ্দিন/সাএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *