জেলার খবর

মেয়ের ভালোবাসায় বদলে গেল বাবার জীবন, পাশে রয়েছে প্রশাসন

প্রকাশিত :
রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
/
১৯ বার সংবাদটি দেখেছে

কয়েকদিন আগেও চুরির অভিযোগে যাকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখার ঘটনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর পর এখন তার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বাড়িতে ভিড় করছেন মানুষ। সহানুভূতির পাশাপাশি অনেকে আর্থিক সহায়তাও নিয়ে যাচ্ছেন।

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল এলাকার অনিক সরদারের পরিবারের জীবনে এই পরিবর্তনের সূত্রপাত ৯ বছর বয়সী মেয়ে তুবার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর। গত শুক্রবার দিবাগত রাতে বামরাইল বাজারে একটি দোকানে চুরির চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয়রা অনিককে আটক করে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন। পরদিন সকালে তার মেয়ে বাবার মুখে নিজ হাতে চা-রুটি তুলে দেয়। সেই দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, হাত-পা বাঁধা অবস্থায় খুঁটির সঙ্গে বসে আছেন অনিক। পাশে থাকা ছোট্ট মেয়ে স্থানীয় একটি দোকান থেকে চা ও রুটি কিনে এনে নিজের হাতে বাবাকে খাওয়াচ্ছে। দৃশ্যটি দেখে অনেকেই আবেগাপ্লুত হন। একই সঙ্গে চুরির অভিযোগের বিচার আইনগত প্রক্রিয়ায় হওয়া উচিত এবং কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত নয়—এমন কথাও উঠে আসে।

পরে স্থানীয়রা মুচলেকা নিয়ে অনিককে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেন। পুলিশ জানিয়েছে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই স্থানীয়রা তাকে মুক্ত করে দেন।

এদিকে অনিকের স্ত্রী জান্নাতুল ফিরদাউস জানান, তিনি এইচএসসি পাস। তাদের দুই সন্তান—তুবা (৯) ও তুরিন ইসলাম তুনা (৩)। সংসারে আয়ের নির্দিষ্ট কোনো ব্যবস্থা নেই। সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তে স্বামীর কর্মসংস্থান কিংবা নিজের জন্য একটি চাকরি প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

জান্নাতুলের ভাষ্য, অনিক এখন আগের জীবন থেকে বেরিয়ে স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে চান। অশ্রুসজল চোখে অনিকও বলেন, তিনি ভালোভাবে জীবনযাপন করতে চান। আয়ের একটি পথ তৈরি করে দেওয়া হলে নিজেকে বদলে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা অনিকের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি জানান, অনিক সত্যিকার অর্থে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তুবার বাবাকে খুঁটির সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় নিজের হাতে খাবার খাওয়ানোর দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেওয়ার পরই পরিবারটির প্রতি মানুষের আগ্রহ ও সহানুভূতি বাড়তে শুরু করেছে।



কুশল/সাএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *