অর্থ ও বাণিজ্যকৃষি

জ্বালানি তেলের পর সবজির বাজারেও বাড়ল উত্তাপ

প্রকাশিত :
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
/
১৩ বার সংবাদটি দেখেছে

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর রাজধানীর বাজারে নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে বিভিন্ন সবজির দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুন, ঝিঙা, পটোল, ধুন্দল, করলা ও ঢ্যাঁড়শসহ বেশ কয়েকটি সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে কাঁচামরিচ ও টমেটোর দামও। অন্য  সবজিগুলোও হাতের নাগালে নেই। তবে ফার্মের ডিম, ব্রয়লার মুরগি ও চালের দাম আপাতত আগের অবস্থাতেই রয়েছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই নিত্যপণ্যের বাজারে দামের ওঠানামা চলছে। এর মধ্যে নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়েছে। সেই বাড়তি ব্যয়ের প্রভাব পড়ছে বাজারে।

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, পরিবহন ব্যয় যতটা বেড়েছে, অনেক পণ্যের খুচরা দাম তার চেয়ে বেশি হারে বাড়ানো হচ্ছে। বাজারে কার্যকর নজরদারি না থাকায় ব্যবসায়ীরা এর সুযোগ নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ তাদের।

গত ২০ সেপ্টেম্বর ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়। নতুন দাম ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। এর আগে ১৯ এপ্রিল ও ১ জুনও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল।

ব্যবসায়ীদের দাবি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পণ্য পরিবহনের ব্যয় বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে পাইকারি বাজারে, আর সেই বাড়তি খরচ যুক্ত হচ্ছে খুচরা দামে।

রাজধানীর খুচরা বাজারে লম্বা বেগুন এখন বাজারভেদে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও এর দাম ছিল ৯০ থেকে ১০০ টাকা। কিছুদিন আগে করলার দাম ৬০ থেকে ৮০ টাকায় নেমে এলেও এখন মানভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ছোট আকারের পটোল ও ঢ্যাঁড়শের দাম বেড়ে হয়েছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে এসব সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া ঝিঙা, ধুন্দলসহ বিভিন্ন সবজির দামও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে কাঁচা পেপে আগের মতো ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের দামেও বাজারভেদে খুব বেশি পরিবর্তন দেখা যায়নি।

কারওয়ান বাজারের এক ব্যবসায়ী মিজান বলেন, যশোর থেকে রাজধানীতে বেগুনসহ বিভিন্ন সবজি আসে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আগে মাঝারি আকারের একটি ট্রাকের ভাড়া ছিল প্রায় ১৮ হাজার টাকা। এখন তা বেড়ে ২১ হাজার টাকা হয়েছে। পরিবহন ব্যয় বাড়ায় পাইকারি ও খুচরা—দুই পর্যায়েই এর প্রভাব পড়ছে।

তবে ক্রেতাদের কেউ কেউ বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব হিসেবে প্রতি কেজিতে এক-দুই টাকা বাড়তে পারে। কিন্তু একবারে ১০-২০ টাকা বাড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বাজারে কার্যকর নজরদারি থাকলে এমনটা হওয়ার কথা নয় বলে তাদের অভিযোগ।

ফার্মের ডিম গত সপ্তাহের মতোই প্রতি ডজন ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির দাম বাজারভেদে ১৮৫ থেকে ১৯৫ টাকা কেজি। চালের বাজারেও এখন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার বড় কোনো প্রভাব দেখা যায়নি।

এদিকে সম্প্রতি কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রতি লিটার দুধের দাম সর্বোচ্চ ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এর আগে সরকারি প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটাও দুধের দাম লিটারপ্রতি ১০ টাকা বাড়ায়। এরপর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও দাম সমন্বয় করেছে।

অন্যদিকে আটা ও ময়দার দামও আগের তুলনায় বেড়েছে। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সরবরাহকারী কয়েকটি করপোরেট প্রতিষ্ঠান এসব পণ্যের দাম বাড়িয়েছে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বাজারে নতুন করে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

মোহাম্মদপুরের রোহান নামে এক ক্রেতা জানান, দ্রব্যমূল্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিষের দাম যে গতিতে বাড়ছে; তার কৃঞ্চিত গতিতেও বাড়েনি বেতন। এমন চলতে থাকলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন বিত্তদের সংসার খরচ চালিয়ে জীবনধারণ করা সম্ভব হবে না।



বাপ্পি/সা.এ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *