স্পোর্টস

বিসিবির নতুন টুর্নামেন্টে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকানা পেতে আগ্রহী ওয়ালটন

প্রকাশিত :
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
/
২৮ বার সংবাদটি দেখেছে

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তিন সংস্করণকে এক কাঠামোর আওতায় এনে ছয় দলের একটি নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ঘরোয়া টুর্নামেন্ট চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। টুর্নামেন্টের দলীয় স্বত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সার্কুলেশনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিসিবিতে আসে প্রতিষ্ঠানটির একটি প্রতিনিধি দল।

কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন ওয়ালটনের এডিশনাল এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর রবিউল ইসলাম মিলটন। তিনি জানান, দেশের ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতায় নতুন এই টুর্নামেন্টের দলীয় স্বত্ব পেতে তারা আগ্রহী।

রবিউল ইসলাম মিলটন বলেন, ‘দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ওয়ালটনের দীর্ঘদিনের পৃষ্ঠপোষকতা ও দায়িত্বশীলতার জায়গা থেকে আমাদের এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিসিবি গণমাধ্যমে যে টেন্ডার দিয়েছে, তার এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ডকুমেন্টস আমরা জমা দিয়েছি।’

দেশের ক্রিকেটের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ওয়ালটনের। শুধু ক্রিকেট নয়, বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশন ও ইভেন্টের সঙ্গেও প্রতিষ্ঠানটির সম্পৃক্ততা রয়েছে। সেই পথচলার কথা তুলে ধরে মিলটন জানান, ‘প্রায় ১৬-১৭ বছর ধরে আমরা স্পোর্টসের সঙ্গে আছি। শুধু ক্রিকেট নয়, বাংলাদেশে প্রায় ৫৬-৫৭টি ফেডারেশনের সঙ্গে আমাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক স্পন্সর করে যাচ্ছি। এটি মূলত আমাদের ম্যানেজমেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্ত এবং ক্রিকেট ও খেলাধুলার প্রতি তাদের অকৃত্রিম ভালোবাসা থেকেই আসে।’

ওয়ালটনের কাছে ক্রীড়া পৃষ্ঠপোষকতা কেবল ব্যবসায়িক বা ব্র্যান্ডিংয়ের অংশ নয় বলেও জানান মিলটন, ‘স্পোর্টস শুধু ব্র্যান্ডিং বা মার্কেটিংয়ের জায়গা নয়, কোম্পানিকে প্রমোট করার জায়গাও নয়, এটি সামাজিক দায়িত্বের জায়গা। তরুণ সমাজ খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে মাদকসহ বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার সুযোগ পায়। একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি করাই ওয়ালটনের অন্যতম লক্ষ্য।’

বিসিবির নতুন এই টুর্নামেন্ট ঘিরে বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও দেখছেন ওয়ালটনের এই কর্মকর্তা। মিলটন বলেন, ‘কমার্শিয়াল দিক থেকে দেখলে এটি অবশ্যই ব্র্যান্ডিংয়ের বড় একটি জায়গা। পাশাপাশি বিসিবি প্রেসিডেন্ট যে আশার কথা বলেছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। টিকিটিং ও ব্রডকাস্টিং থেকে বিসিবির যে আয় হবে, তার ৫০ শতাংশ ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো লভ্যাংশ হিসেবে পাবে এবং বাকি ৫০ শতাংশ বোর্ডের থাকবে। এটিও ভালো একটি দিক।’

বিপিএল না থাকায় নতুন এই টুর্নামেন্ট ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ তৈরি হতে পারে বলেও মনে করেন মিলটন, ‘টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টকে ঘিরে যে আলোড়ন তৈরি হয়েছে এবং বিপিএল হবে না, সেই জায়গা থেকে আমার মনে হয় এটি বিপিএলের সেকেন্ড ভার্সন হতে পারে। পার্থক্য হলো, এখানে বিদেশি খেলোয়াড়দের সম্পৃক্ততা নেই। তবে দেশের বড়-বড় খেলোয়াড়রা এই টুর্নামেন্টে খেলবেন।’

ঢাকার বাইরে ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনাকেও ইতিবাচকভাবে দেখছেন ওয়াল্টনের এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘খেলাগুলো ঢাকার বাইরেই বেশি হবে। বরিশাল, খুলনা, বগুড়ার মতো জায়গায় খেলা হবে। গত দুই বছর আমরা দেখেছি, এসব অঞ্চলে খেলা হলে দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহ থাকে।’

এর আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল প্রতিষ্ঠানটি। তবে দলীয় স্বত্বের ক্ষেত্রে ক্রিকেটারদের প্রাপ্যতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিসিবির কাছে নির্দিষ্ট সময়সূচির দাবি জানিয়ে আসার কথা জানান মিলটন।

‘আমরা যখন বিসিএল দল পরিচালনা করতাম, প্রতি বছরই চাইতাম এমন একটি সময়ে খেলা হোক, যখন চারটি দলের জন্য ভালো খেলোয়াড়দের পাওয়া সম্ভব। যাতে ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোনে আমরা ভালো ক্রিকেটার পেতে পারি। ২০২০ সালে আমরা যে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম, সেটি ওয়ানডে সংস্করণে, তখন আমাদের দলে সাকিব আল হাসানও খেলেছিলেন,’ বলেন তিনি।

ঘরোয়া ক্রিকেটের টুর্নামেন্টগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করতে করপোরেট দলগুলোর পাশাপাশি বিসিবির পরিকল্পিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও মনে করেন ওয়ালটনের এই কর্মকর্তা, ‘আমরা সবসময় বিসিবির কাছে এই অনুরোধ করে এসেছি। আমাদের সঙ্গে অন্য যেসব করপোরেট প্রতিষ্ঠান ছিল ইসলামী ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক এবং বর্তমানে যারা আছে আমার মনে হয় তারাও একই বিষয় চাইবে। বিসিবি যদি পরিকল্পনাটি সঠিকভাবে করতে পারে, তাহলে করপোরেট দলগুলোর জন্য যেমন ভালো হবে, তেমনি দর্শকদের জন্যও ভালো হবে। সর্বোপরি টুর্নামেন্টের মূল উদ্দেশ্যও পূরণ হবে,’ যোগ করেন মিলটন।



সালাউদ্দিন/সাএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *