সারাবিশ্ব

সৌদির পক্ষে যুদ্ধ নামতে প্রস্তুত তুরস্ক

প্রকাশিত :
রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
/
১৭ বার সংবাদটি দেখেছে

ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান হামলার মুখে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তুরস্ক।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, পাকিস্তানসহ ত্রিদেশীয় মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় রিয়াদকে যেকোনও ধরনের সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে আঙ্কারা।

তুরস্কের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেছেন, ‘‘আমরা দেখছি সৌদি আরবের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর ভয়াবহ হামলা হচ্ছে। আমাদের ত্রিপাক্ষিক চুক্তিতে জোটগত ঐক্যের স্পষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে। এই সংকটকালে সৌদির পাশে দাঁড়াতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাদের কিছু সামরিক সহায়তা, বিশেষ করে প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। আর এই সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের কোনও দ্বিধা নেই।’’

গত মাসে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে ওই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনও একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা জোটের বাকি সদস্য দেশগুলোর ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।

ইয়েমেনের অধিকাংশ জনবহুল অঞ্চল নিয়ন্ত্রণকারী হুথি বিদ্রোহীরা গত জুলাইয়ে রিয়াদের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে। এরপর থেকে তারা সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়ে আসছে।

হুথিদের এসব হামলায় সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর, জ্বালানি অবকাঠামো এবং পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালিতে আগেই জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। তার ওপর নতুন করে হুথিদের এই হামলায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ ও উপসাগরীয় দেশগুলোর বিকল্প লোহিত সাগর রুট মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে।

এদিকে, হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চেয়েছিল রিয়াদ। তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন। গত বছর টানা দুই মাস হুথিদের ওপর ওয়াশিংটন বোমা বর্ষণ করার পর মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল গোষ্ঠীটি।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সংঘাত এড়িয়ে চলতে চাওয়া সৌদি আরবকে জোর করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে টেনে আনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিস্তারিত না জানিয়ে তিনি বলেন, চলমান যুদ্ধ থামাতে সব পক্ষকেই কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

ফিদান বলেন, সংকটের সমাধানে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেসব উদ্যোগকে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর গ্রহণ করতে হবে। নতুন কিছু প্রস্তাবও টেবিলে রয়েছে। আশা করি তারা এসব মেনে নেবে। তা না হলে এতদিন সংঘাতটি একরকম সহ্য করা গেলেও এর অর্থনৈতিক ধাক্কা বর্তমানে সহনশীলতার সীমা ছাড়িয়ে যেতে শুরু করেছে।

পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তির দেশ তুরস্ক বলেছে, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের এই চুক্তিটি একটি উন্মুক্ত প্রক্রিয়া এবং এটি বিদ্যমান অন্য কোনও আন্তর্জাতিক জোটের বিকল্প হিসেবে গঠিত হয়নি।

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগেই সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরের কাছে বিকট বিস্ফোরণ, অগ্নিকাণ্ড ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখতে পান স্থানীয়রা। পরবর্তীতে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা রিয়াদের একাধিক ‘‘সংবেদনশীল’’ স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দায় স্বীকার করে।

সৌদি ভূখণ্ডে হুথিদের এ ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে সব সামরিক তৎপরতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে আঙ্কারা।



রোহান/সা.এ.

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *