স্পোর্টস

অভিষেক ঝড়ে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে উড়ে গেল আফগানিস্তান

প্রকাশিত :
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
/
১৯ বার সংবাদটি দেখেছে

দিল্লির রাতটা ছিল অভিষেক শর্মার। ব্যাট হাতে ঝড় তুলে মাত্র ৩২ বলে ৮২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছেন ভারতের এই ওপেনার। তাঁর তাণ্ডবের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি আফগানিস্তান। ১৫৭ রানের লক্ষ্য মাত্র ১৩.৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে টপকে ৭ উইকেটের বড় জয় পেয়েছে ভারত।

এই জয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে দারুণ শুরু করল স্বাগতিকরা।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বিপাকে পড়ে আফগানিস্তান। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই রহমানউল্লাহ গুরবাজকে ফিরিয়ে দেন চোট কাটিয়ে দলে ফেরা জসপ্রিত বুমরাহ। শুরুতে পাঁচটি ওয়াইড দিয়ে কিছুটা খরুচে হলেও পরের বলেই গুরবাজকে দুর্দান্ত ডেলিভারিতে আউট করেন ভারতীয় এই পেসার। ফলে প্রথম ওভারে অতিরিক্ত রান ছাড়া ব্যাট থেকে কোনো রান দেননি তিনি।

এরপর সেদিকউল্লাহ অটল ও নতুন অধিনায়ক ইব্রাহিম জাদরান মিলে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তৃতীয় ওভারে বুমরাহকে চার-ছক্কা মেরে আত্মবিশ্বাসী শুরুর ইঙ্গিত দেন অটল। কিন্তু চতুর্থ ওভারের শেষ বলে রানআউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন জাদরান।

এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি আফগানরা। অর্শদীপ সিংয়ের বলে অটল শর্ট থার্ডে ক্যাচ দেন। পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে অক্ষর প্যাটেলের বলে গুলবাদিন নাইবও বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন। কভার থেকে পেছনে দৌড়ে গিয়ে মাথার ওপর দুর্দান্ত ক্যাচটি নেন নীতিশ কুমার রেড্ডি।

সেখান থেকে আফগানিস্তানের ব্যাটিংয়ে আরও ধস নামে। দীর্ঘদিন পর দলে ফেরা বরুণ চক্রবর্তী নিজের প্রথম ওভারেই দারবিশ রাসুলিকে বোল্ড করে ফেরান। সাত ওভার শেষে মাত্র ৪৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে আফগানিস্তান।

তবে সেখানেই হাল ছাড়েননি আজমতউল্লাহ ওমরজাই। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলকে বিপর্যয় থেকে টেনে তোলেন তিনি। তুলে নেন গুরুত্বপূর্ণ ফিফটি। শেষ পর্যন্ত তাঁর ৬৪ রানের ইনিংস এবং মোহাম্মদ নবীর ৩৩ রানের সুবাদে লড়াই করার মতো সংগ্রহ পায় আফগানিস্তান।

নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৬ রান সংগ্রহ করে তারা।

ভারতের হয়ে অক্ষর প্যাটেল চার ওভারে মাত্র ২৭ রান দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। অর্শদীপ ও বুমরাহ শেষ তিন ওভারে খরচ করেন মাত্র ১৫ রান। তবে ২০তম ওভারে শিবাম দুবের ওপর চড়াও হন ওমরজাই। ওই ওভার থেকেই ২১ রান তুলে আফগানিস্তানের স্কোর দেড়শ পার করে দেন তিনি।

ছবি: সংগৃহীত

দিল্লির ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে ১৫৭ রান অবশ্য ভারতের জন্য বড় কোনো লক্ষ্য ছিল না। আর সেটিই প্রমাণ করে দিয়েছেন অভিষেক শর্মা।

রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ভারত। দুইটি চার মেরে দ্রুত রান তুললেও ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাঞ্জু স্যামসন। এরপর ইশান কিশানকে সঙ্গে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেন অভিষেক।

ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে ওপেনিং পজিশন নিয়ে চলছে তীব্র প্রতিযোগিতা। অভিষেক, সাঞ্জু স্যামসন ও বৈভব সূর্যবংশীর মতো প্রতিভাবান ব্যাটারদের মধ্যে জায়গা করে নেওয়ার লড়াই বেশ জমে উঠেছে। জিম্বাবুয়ে সফর মিস করে দলে ফিরে অভিষেক যেন ব্যাট হাতেই নিজের জবাবটা দিয়ে দিলেন।

ফজলহক ফারুকির বলে কভারের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে শুরু হয় তাঁর তাণ্ডব। এরপর ওমরজাইয়ের বলে লং-অফের ওপর দিয়ে এবং ফারুকির বলে মিডউইকেটের ওপর দিয়ে আরও দুই ছক্কা। রশিদ খানের বলে স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে নিজের বিধ্বংসী ইনিংসের বার্তা আরও স্পষ্ট করেন তিনি।

এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাননি অভিষেক। লং-অন, কভার, স্কয়ার লেগ—মাঠের প্রায় সব প্রান্তেই বল পাঠিয়েছেন সীমানার বাইরে। তাঁর ব্যাটিংয়ের সামনে আফগান বোলারদের যেন অসহায় মনে হচ্ছিল।

অন্য প্রান্তে ইশান কিশানও ছিলেন সাবলীল। তবে অভিষেকের তাণ্ডবে অনেকটা দর্শকের ভূমিকাতেই থাকতে হয় তাঁকে। দ্বিতীয় উইকেটে দুজন গড়েন ১২১ রানের দুর্দান্ত জুটি। ৩৩ বলে ৪২ রান করে রশিদ খানের বলে দ্বিতীয় ছক্কা হাঁকানোর চেষ্টা করতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন কিশান।

ততক্ষণে ভারতের জয় অবশ্য হাতের মুঠোয়। রশিদ খান উইকেট না পেলেও দুটি দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে দলের হয়ে লড়াই করার চেষ্টা করেন। কিন্তু অভিষেকের ঝড় থামাতে পারেননি তিনিও।

শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৩.৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৫৭ রান তুলে ৭ উইকেটের বড় জয় নিশ্চিত করে ভারত।

বুমরাহ ও বরুণের প্রত্যাবর্তন, অর্শদীপ-অক্ষরের কার্যকর বোলিং আর সবশেষে অভিষেক শর্মার ব্যাটিং তাণ্ডব—সব মিলিয়ে দিল্লিতে প্রথম টি-টোয়েন্টি হয়ে থাকল ভারতের দাপটের ম্যাচ। আর ৩২ বলে ৮২ রানের বিস্ফোরক ইনিংস দিয়ে অভিষেক আবারও বুঝিয়ে দিলেন, ছন্দে থাকলে তাঁকে থামানো কতটা কঠিন।



বাপ্পি/সা.এ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *