জেলার খবর

কুমিল্লায় গণপিটুনিতে আওয়ামী লীগ নেতা নিহত

প্রকাশিত :
রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
/
৮ বার সংবাদটি দেখেছে

কুমিল্লার বাঙ্গরা উপজেলার পেন্নাই গ্রামে দীর্ঘ দিন ধরে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার মেম্বার মধ্যরাতে গণপিটুনিতে নিহত হয়। তবে পরিবারের অভিযোগ আওয়ামী লীগের (জাহাঙ্গীর গ্রুপ) একাংশ চাঁদা না পেয়ে হত্যা করে। নিহত আনোয়ার বাঙ্গরা উপজেলার উত্তর পেন্নাই গ্রামের মৃত মনু মিয়ার ছেলে ।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোর চারটার দিকে উপজেলার উত্তর পেন্নই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আনোয়ার শ্রীকাইল ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং একই ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। জানা যায় – প্রায় আড়াই বছর ধরে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে ছিলেন আনোয়ার। শনিবার গভীর রাতে গোপনে তিনি বাড়িতে ফেরেন। বিষয়টি জানতে পেরে রাত সাড়ে তিনটার দিকে শ্রীকাইল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ হোসেনের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় আনোয়ারকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে মোমেনা বেগমের হাতে আঘাত করা হয়।

মোমেনা বেগমের ভাষ্য, হামলার পর ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতে এলাকায় ডাকাত পড়েছে বলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়। তাঁর আহত স্বামীকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তাঁদের আটকে রাখা হয়। পরে বাঙ্গরা বাজার থানা-পুলিশের সহায়তায় সকাল ছয়টার দিকে আনোয়ারকে উদ্ধার করে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাজমুস সাকির বলেন, হাসপাতালে আনার পর পরীক্ষা করে আনোয়ারকে মৃত পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, হাসপাতালে আনার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

আনোয়ারের চাচাতো ভাই মো. জসিম উদ্দিন বলেন, কিছুদিন আগে গ্রামে ফেরার চেষ্টা করলে ফিরোজ হোসেনের লোকজন আনোয়ারের কাছে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে তাঁরা জানতে পারেন। টাকা না দিলে এলাকায় এলে তাঁকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল। জসিমের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে আনোয়ারকে হত্যা করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনোয়ার হোসেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য প্রার্থী ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের পক্ষে কাজ করেন। অন্যদিকে সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ হোসেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম সরকারের পক্ষে কাজ করেন। ওই নির্বাচনে জাহাঙ্গীরের কাছে ইউসুফ পরাজিত হন। এ বিষয় বাঙ্গরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিউল আলম জানান- আনোয়ার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে মারামারির ঘটনায় বাঙ্গরা বাজার থানায় পাঁচটি মামলা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন- ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি।



বাপ্পি/সা.এ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *