অর্থ ও বাণিজ্যকৃষি

মুনাফা বাড়লেও সিটি ব্যাংকের আর্থিক বিবরণীতে যে প্রশ্নগুলো ভাবাচ্ছে বিনিয়োগকারীদের

প্রকাশিত :
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
/
১৭ বার সংবাদটি দেখেছে

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিটি ব্যাংক পিএলসি’র সর্বশেষ আর্থিক বিবরণীতে মুনাফা ও সম্পদের মানের উন্নতি দেখা গেলেও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিতে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণের দাবি রাখে। বিশেষ করে ব্যাংকটির মুনাফার উৎস, প্রভিশন ব্যয় এবং বিনিয়োগ আয়ের ওপর নির্ভরতার বিষয়গুলো অন্য ব্যাংকের সঙ্গে তুলনা করে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।

২০২৫ সালে সিটি ব্যাংকের সমন্বিত নিট মুনাফা ৩১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩২৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে খেলাপি ঋণের অনুপাত বা NPL কমে ২ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে। ফলে মুনাফা ও ঋণের মান- দুই ক্ষেত্রেই ব্যাংকটির পারফরম্যান্স ইতিবাচক। তবে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রথম প্রশ্ন হলো, এই মুনাফার কতটা এসেছে মূল ঋণ ব্যবসা থেকে এবং কতটা এসেছে বিনিয়োগ থেকে।

২০২৫ সালে উচ্চফলনশীল সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ থেকে ব্যাংকের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সরকারি সিকিউরিটিজ থেকে আয় মোট পরিচালন আয়ের প্রায় ২৬ শতাংশে পৌঁছেছে। স্বল্পমেয়াদে এটি ব্যাংকের মুনাফাকে শক্তিশালী করলেও সুদের হার কমে গেলে এই আয়ের ধারাবাহিকতা কতটা থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে।

দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রভিশন ব্যয়। ২০২৫ সালে ব্যাংকটির প্রভিশন ব্যয় ৬২৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৮১৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বেশি প্রভিশন রাখার কারণেই মুনাফা তাদের প্রত্যাশিত ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় পৌঁছায়নি। বেশি প্রভিশন একদিকে ভবিষ্যৎ ঋণঝুঁকির বিরুদ্ধে সুরক্ষা বাড়ায়, অন্যদিকে এটি ব্যাংকের ঋণপোর্টফোলিওতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের নজরে রাখার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে।

তৃতীয়ত, করপোরেট ও মিডিয়াম-এন্টারপ্রাইজ ঋণের মান ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান NPL ২ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এলেও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে এসব ঋণের মানে চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে শুধু বর্তমান NPL নয়, ভবিষ্যতে নতুন করে কত ঋণ খেলাপিতে পরিণত হচ্ছে এবং তার বিপরীতে পর্যাপ্ত প্রভিশন রাখা হচ্ছে কি না- সেদিকেও নজর রাখা জরুরি।



সাজু/নিএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *