জেলার খবর

চিকিৎসকের বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরি, লুট ২০ লাখ টাকার মালামাল

প্রকাশিত :
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
/
১৪ বার সংবাদটি দেখেছে

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের ঘিকমলা এলাকায় দীর্ঘদিন ফাঁকা থাকা ডাক্তার আবু জাফরের বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। একতলা ও দুইতলা ভবনের গ্রিল ও চিলেকোঠার টিন কেটে ভেতরে ঢুকে মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়েছে চোর চক্র। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, চোর চক্র শুধু চুরিই করেনি, বরং একাধিক দিন ঘরে অবস্থান করে রাত্রীযাপন ও মাদকের আড্ডা দিয়েছে।

গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জুম্মার নামাজ শেষে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘিকমলা এলাকার স্থানীয় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক আবু জাফর নিজ বাড়িতে প্রবেশ করলে বিষয়টি সামনে আসে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একতলা ভবনের পেছনের জানালার লোহার গ্রিল কেটে চোর ভেতরে প্রবেশ করে। ঘরের ভেতরে থাকা চারটি রুমের আলমারি ও ড্রয়ারের তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল নিয়ে যায়। এছাড়া প্রতিটি রুম ও বারান্দার সিলিং ফ্যান এবং বাইরের পানির মোটর খুলে নিয়ে গেছে। শুধু তা-ই নয়, দুইতলা ভবনের চিলেকোঠা দিয়ে ঢুকে বিভিন্ন ঘরের ভেতরের বৈদ্যুতিক তারের কভার কেটে তামা আলাদা করার আলামত পাওয়া গেছে।

ডাক্তার আবু জাফর জানান, তিনি পরিবার নিয়ে বালিয়াকান্দিতে এবং তাঁর বড় ছেলে মৃগীতে বসবাস করেন। ফলে বাড়িটি দীর্ঘদিন খালি ছিল। তিনি বলেন, “নামাজ শেষে বাড়িতে ঢুকে দেখি সব তছনছ হয়ে আছে। মনে হচ্ছে চোর ঘরের ভেতর মাদকের আড্ডা বসিয়েছিল এবং অন্য স্থান থেকে তার এনে কভার ছাড়িয়ে তামা আলাদা করেছে। সাব-বাক্স ও আলমারিতে থাকা স্বর্ণালঙ্কার ও জিনিসপত্রসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়েছে।”

আবু জাফরের বড় ভাই জানান, বাড়িটিতে কেউ না থাকায় চোর চক্র এই সুযোগটি নিয়েছে। বাইরে থেকে তালা ঠিক থাকলেও ভেতরের এমন তছনছ অবস্থা বাইরে থেকে বোঝার কোনো উপায় ছিল না।

এ বিষয়ে বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুর রব তালুকদার জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে চোর চক্র একাধিক দিন সেখানে রাত্রীযাপন ও মাদক সেবন করেছে বলে মনে হচ্ছে। বাড়ির মালিককে সন্দেহভাজনদের নাম দিতে বলা হয়েছে, তালিকা পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



সাজু/নিএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *