ক্যাম্পাস

ডিএনএ সিকোয়েন্সিংয়ে বাকৃবির নতুন উদ্ভাবন

প্রকাশিত :
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬
/
২ বার সংবাদটি দেখেছে

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক ডিএনএ সিকোয়েন্সিংয়ের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে নতুন একটি সফটওয়্যার উদ্ভাবন করেছে। উদ্ভাবিত সফটওয়্যারটি ওয়েব ভার্সনেও ব্যবহার করা যাবে বলে জানিয়েছেন গবেষকদল।

সোমবার (০২ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অফিসের সম্মেলন কক্ষে এক কর্মশালায় এসব বিষয় জানিয়েছেন গবেষক দল।

গবেষক দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ম্যাথম্যাটিকস (সিএসএম) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মেছবাহ উদ্দিন তিনি বলেন, সাধারণ প্রোটিন সিকোয়েন্স বা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে সাদৃশ্য বের করতে যেখানে প্রায় এক মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে সেখানে আমাদের তৈরি এই নতুন সফটওয়্যারের মাধ্যমে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই নিখুঁত ফলাফল পাওয়া সম্ভব। সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সহযোগিতায় ও প্রাক-প্রস্তাবনার ভিত্তিতে তৈরি এই সফটওয়্যারটি অত্যন্ত হাইলি অপ্টিমাইজড। বর্তমানে এটি ডেস্কটপ ও ওয়েব ( dnasimlab.com) এই দুটি ভার্সনেই দেশের মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

গবেষক দলের আরো যুক্ত ছিলেন মাইফি-উল আসাদ, বাকৃবির বায়োইনফরমেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী মুহাম্মদ ইশমামুল হক ও মো: আসিফুজ্জামান।

গবেষকদল সূত্রে জানা যায়, গবেষকরা ডিএনএ তুলনার একটি নতুন দ্রুত পদ্ধতি বানিয়েছেন। দুটো ডিএনএ-কে অক্ষরে অক্ষরে মিলিয়ে দেখার বদলে তাঁরা ডিএনএ-র ছোট ছোট অংশ নিয়ে দেখেছেন, সেগুলো অন্য ডিএনএ-তে কতটা মেলে। ডিএনএ-র দুই সুতোয় অক্ষরগুলো জোড়ায় জোড়ায় থাকে (A-T, C-G) তাই সরাসরি মিল আর উল্টো জোড়ার মিল, দুটোই দেখা হয়েছে। এই মিলের হিসাব থেকে প্রতিটি ডিএনএ’র জন্য একটি সংখ্যার তালিকা তৈরি হয়। তারপর এই তালিকাগুলো তুলনা করে বংশবৃক্ষ (ফাইলোজেনেটিক ট্রি) আঁকা হয়।

গবেষক দল সূত্রে আরও জানা যায়, পরবর্তীতে পরবর্তীতে পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে ডিএনএ’র বংশবৃক্ষ ৯৫–১০০% সঠিক হয়েছে, জনপ্রিয় সফটওয়্যার মেগার চেয়ে ৫৫ থেকে ১৭৪৭ গুণ দ্রুত এবং অন্য পদ্ধতিগুলোর চেয়ে ৩০-৯৯% কম মেমোরি ব্যবহার করেই কাজ সম্পন্ন করতে পারে। এই গবেষণা সম্পর্কিত একটি প্রবন্ধ “মলিকিউলার জেনেটিক্স অ্যান্ড জিনোমিক্স” নামক আন্তর্জাতিক একটি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

“গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস ভিত্তিক ডেস্কটপ সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে ডিএনএ সিকোয়েন্সের সাদৃশ্য দক্ষতার সঙ্গে শনাক্তকরণ” শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওই অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুল মজিদ এবং সভাপতিত্ব করেন সিএসএম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও প্রধান সহযোগী অধ্যাপক মো: সাইদ ইফতিখার ইউসুফ। এছাড়া অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিন অধ্যাপক ড. আবদুল মজিদ বলেন, প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে এমন একটি উপভোগ্য সফটওয়্যার তৈরি করা সত্যিই একটি চমৎকার দিক। সাধারণত বিভিন্ন অফিস বা আইসিটি ডিভিশনের বাইরেও বিভিন্ন প্রয়োজনে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার তৈরি করে থাকেন। দীর্ঘ তিন মাসের হাইটেক রিসার্চ বা গবেষণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই ইন্টেলিজেন্ট সফটওয়্যারটির ব্যবহারিক দিক এবং প্রেজেন্টেশনের জন্য এটি একটি দারুণ অর্জন ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

এছাড়া বায়োইনফরমেটিক্স গবেষণা ও সফটওয়্যার উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।



বাপ্পি/সা.এ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *