লাইফ স্টাইল

ঘরের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি সতেজ পরিবেশ দেবে যে ১০ ইনডোর গাছ

প্রকাশিত :
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬
/
২ বার সংবাদটি দেখেছে

ঘরের এক কোণে সবুজ গাছ থাকলে বদলে যায় পুরো পরিবেশ। ঘরের সাজে আসে স্নিগ্ধতা, তৈরি হয় প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার অনুভূতি। তবে কিছু ইনডোর গাছ শুধু সৌন্দর্য বাড়ায় না, পরীক্ষাগারে পরিচালিত গবেষণায় বাতাসের নির্দিষ্ট কিছু দূষক শোষণের সক্ষমতার প্রমাণও পাওয়া গেছে। অ্যালোভেরা, স্নেক প্ল্যান্ট, স্পাইডার প্ল্যান্ট কিংবা পিস লিলির মতো গাছ তাই অনেকের পছন্দের তালিকায় রয়েছে।

যদিও মনে রাখতে হবে, টবের গাছ ঘরের বাতাস পুরোপুরি বিশুদ্ধ করতে পারে না। গবেষণাগারে দূষক শোষণের যে সক্ষমতা দেখা গেছে, বাস্তব ঘরের পরিবেশে তার প্রভাব তুলনামূলক সীমিত। তবু ঘরের সৌন্দর্য ও সবুজ পরিবেশের জন্য এসব গাছ হতে পারে দারুণ পছন্দ।

ছবি: সংগৃহীত

১. অ্যালোভেরা

ঔষধি গুণের জন্য অ্যালোভেরা পরিচিত হলেও ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতেও গাছটির জুড়ি নেই। মাংসল ও সবুজ পাতার কারণে এটি দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি পরিচর্যাও সহজ। পরীক্ষাগারের গবেষণায় অ্যালোভেরার ফর্মালডিহাইড ও বেনজিনের মতো কিছু রাসায়নিক দূষক শোষণের সক্ষমতা দেখা গেছে। তবে গাছটি ভালো রাখতে পর্যাপ্ত আলো দিতে হবে এবং অতিরিক্ত পানি দেওয়া যাবে না।

ছবি: সংগৃহীত

২. গোল্ডেন পোথস

সবুজ ও হলুদাভ পাতার লতানো গোল্ডেন পোথস ঘরের দেয়াল, তাক কিংবা ঝুলন্ত টবে দারুণ মানিয়ে যায়। কম যত্নেও গাছটি বেড়ে ওঠে। পরীক্ষাগারে ফর্মালডিহাইড, বেনজিন ও জাইলিনের মতো দূষক শোষণের সক্ষমতা পাওয়া গেছে। তবে একটি সতর্কতা রয়েছে—গোল্ডেন পোথস বিড়াল ও কুকুরের জন্য বিষাক্ত। তাই বাড়িতে পোষা প্রাণী থাকলে গাছটি তাদের নাগালের বাইরে রাখা উচিত।

ছবি: সংগৃহীত

৩. ইংলিশ আইভি

লতানো পাতার ইংলিশ আইভি ঘরের সাজে এনে দেয় ভিন্ন মাত্রা। ঝুলন্ত টব কিংবা উঁচু তাকের পাশে রাখলে এর লম্বা লতা দেখতে বেশ আকর্ষণীয় লাগে। পরীক্ষাগারের গবেষণায় গাছটির কিছু বায়ুদূষক শোষণের সক্ষমতা দেখা গেছে। তবে সুস্থ রাখতে নিয়মিত পরিচর্যা, পরিমিত পানি এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে সুরক্ষা প্রয়োজন।

ছবি: সংগৃহীত

৪. অ্যারেকা পাম

ঘরের ভেতর একটু বড় আকারের সবুজ গাছ রাখতে চাইলে অ্যারেকা পাম হতে পারে ভালো পছন্দ। এর লম্বা, ঘন ও ছড়ানো পাতা ঘরে এনে দেয় সতেজ আবহ। ব্যাটারফ্লাই পাম নামেও পরিচিত এই গাছটি উজ্জ্বল পরোক্ষ আলোতে ভালো বেড়ে ওঠে। মাটি হালকা আর্দ্র রাখা এবং পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা করা জরুরি। পরীক্ষাগারে বেনজিন ও ফর্মালডিহাইডের মতো কিছু দূষক শোষণের সক্ষমতাও দেখা গেছে।

ছবি: সংগৃহীত

৫. স্পাইডার প্ল্যান্ট

সহজ পরিচর্যা ও আকর্ষণীয় পাতার কারণে স্পাইডার প্ল্যান্ট বেশ জনপ্রিয়। সরু, লম্বা পাতার পাশাপাশি গাছটির ডাল থেকে ছোট ছোট চারা ঝুলে থাকে। টেবিল কিংবা ঝুলন্ত টবে রাখলে দেখতে চমৎকার লাগে। পরীক্ষাগারে ফর্মালডিহাইড ও জাইলিনের মতো দূষক শোষণের সক্ষমতা পাওয়া গেছে। মাটি শুকিয়ে এলে পানি দিলেই সাধারণত গাছটি ভালো থাকে।

ছবি: সংগৃহীত

৬. পিস লিলি

সাদা ফুল আর গাঢ় সবুজ পাতার সমন্বয়ে পিস লিলি ঘরের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে। তুলনামূলক কম আলোতেও গাছটি বেঁচে থাকতে পারে। পরীক্ষাগারের গবেষণায় বেনজিন, ফর্মালডিহাইড ও জাইলিনের মতো কিছু দূষক শোষণের সক্ষমতা দেখা গেছে। তবে সরাসরি কড়া রোদ এড়িয়ে চলা ভালো। গাছটির একটি অসুবিধা হলো, এটি বিড়াল ও কুকুরের জন্য বিষাক্ত হতে পারে।

ছবি: সংগৃহীত

৭. স্নেক প্ল্যান্ট

মাদার-ইন-ল’স টাং নামেও পরিচিত স্নেক প্ল্যান্টের লম্বা, খাড়া পাতায় ঘরের সাজে আসে আধুনিক আবহ। কম আলোতেও টিকে থাকতে পারে বলে ঘরের বিভিন্ন স্থানে রাখা যায়। পরীক্ষাগারে এই গাছের কিছু উদ্বায়ী জৈব যৌগ শোষণের সক্ষমতা দেখা গেছে। পরিচর্যাও বেশ সহজ। তবে অতিরিক্ত পানি দিলে শিকড় পচে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ছবি: সংগৃহীত

৮. চাইনিজ এভারগ্রিন

পাতার বৈচিত্র্যের কারণে চাইনিজ এভারগ্রিন ঘরের ভেতরে রাখার জন্য বেশ আকর্ষণীয় একটি গাছ। এর পাতায় সবুজের পাশাপাশি রুপালি, গোলাপি কিংবা লালচে নকশা দেখা যায়। কম আলোতেও বেড়ে উঠতে পারে বলে ঘরের বিভিন্ন কোণে রাখা যায়। পরীক্ষাগারে কিছু বায়ুদূষক শোষণের সম্ভাবনাও দেখা গেছে। তবে এই গাছের পাতাও পোষা প্রাণীর জন্য বিষাক্ত হতে পারে।

ছবি: সংগৃহীত

৯. ড্রাসিনা

লম্বা পাতা ও স্বতন্ত্র গড়নের কারণে ড্রাসিনা ঘরের সাজে আলাদা সৌন্দর্য যোগ করে। এর বিভিন্ন প্রজাতি ইনডোর প্ল্যান্ট হিসেবে জনপ্রিয়। উজ্জ্বল কিন্তু পরোক্ষ আলোতে গাছটি ভালো থাকে। পরীক্ষাগারের গবেষণায় ফর্মালডিহাইড ও বেনজিনের মতো দূষক শোষণের সক্ষমতা পাওয়া গেছে। তবে বাড়িতে বিড়াল বা কুকুর থাকলে সতর্ক থাকতে হবে, কারণ ড্রাসিনা তাদের জন্য বিষাক্ত।

ছবি: সংগৃহীত

১০. বোস্টন ফার্ন

ঘরে সবুজের সমারোহ বাড়াতে বোস্টন ফার্ন হতে পারে চমৎকার পছন্দ। এর ঘন, কোমল ও ঝুলন্ত পাতাগুলো ঘরের সাজে আনে স্নিগ্ধতা। আর্দ্র পরিবেশ ও পরোক্ষ আলোতে গাছটি ভালো বেড়ে ওঠে। মাটি শুকিয়ে এলে পানি দিতে হয়। নিয়মিত পরিচর্যা করলে দীর্ঘদিন গাছটিকে সতেজ রাখা সম্ভব।

গাছই কি ঘরের বাতাস পরিষ্কার করার জন্য যথেষ্ট?

ঘরের বাতাস ভালো রাখতে ইনডোর গাছ সহায়ক হতে পারে, তবে একে বায়ু পরিশোধনের নির্ভরযোগ্য উপায় ভাবার সুযোগ নেই। পরীক্ষাগারে টবের গাছের দূষক শোষণের সক্ষমতা দেখা গেলেও বাস্তব ঘরের বাতাসে দূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে অনেক বেশি গাছের প্রয়োজন হতে পারে। ফলে কয়েকটি টবের গাছ দিয়ে ঘরের বাতাস পুরোপুরি বিশুদ্ধ করা সম্ভব নয়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ঘরের বাতাসের মান ভালো রাখতে নিয়মিত জানালা খুলে প্রাকৃতিক বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করা, ধুলাবালি পরিষ্কার রাখা, ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং রান্নার ধোঁয়া বাইরে বের হওয়ার ব্যবস্থা করা জরুরি। প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত এয়ার পিউরিফায়ারও ব্যবহার করা যেতে পারে।

সব মিলিয়ে, ইনডোর গাছ ঘরের সৌন্দর্য বাড়ায়, সবুজের সঙ্গে মানুষের সংযোগ তৈরি করে এবং বসবাসের পরিবেশকে আরও মনোরম করে তোলে। বাতাস পরিশোধনের বিকল্প না হলেও ঘরের এক কোণে সবুজ গাছের উপস্থিতি নিঃসন্দেহে এনে দিতে পারে প্রশান্তির অনুভূতি।



বাপ্পি/সা.এ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *