জেলার খবর

সরিষাবাড়ীর সুবর্ণখালি নদী দখল-দূষণে বিপন্ন, ভূমি উদ্ধার ও দখল মুক্ত করার দাবি এলাকাবাসীর

প্রকাশিত :
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬
/
১২ বার সংবাদটি দেখেছে

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার প্রাণ কেন্দ্রদিয়ে প্রবাহমান সুবর্ণখালি নদী দখল- দূষণে বিপন্ন। নদী রক্ষায় এলাকাবাসী মিছিল, সমাবেশ এবং মানববন্ধন করলেও স্থানীয় প্রশাসন আমলে নেয়নি। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম এবং জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের নিকট আবেদন করে পৌরবাসী। আবেদনের প্রেক্ষিতে সুবর্ণখালি দখলমুক্ত করতে প্রশাসনকে নদী কমিশন পত্র দেয়। জাতীয় নদী কমিশনের এই পত্র প্রাপ্তির পর গত ২৮-১২-২০২৩ইং তারিখে জামালপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে ০৫-০১- ২০২৪ইংএর মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য অবগত করেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও মানা হয়নি কমিশনের নির্দেশ।

স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, পৌরসভার র‌্যালী ব্রীজ, ইস্পাহানী আবাসিক এলাকা, গণময়দান, শিমলা বাজার, এআরএ জুট মিল আবাসিক এলাকা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, খাদ্যগুদাম, সরিষাবাড়ী হাসপাতা, আরামনগর বাজার, ঝালুপাড়ার কোল ঘেসে বয়ে যাওয়া সুবর্ণখালি নদী ভূমি খেকোরা মাটি ভরাট করে প্লট আকারে বিক্রী করছে। নির্মান করা হচ্ছে উচু ইমারত। স্থানীয় প্রশাসনের নাকের ডগায় আবাসিক এলাকা গড়ে উঠলেও কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছেনা বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আবু সালেহ সিদ্দিকী সোহেল বলেন, সরিষাবাড়ির ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রতভাবে জড়িয়ে আছে এই সূবর্ণখালী খাল। খালটির তীর ঘেঁষেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সরিষাবাড়ির মূল শহর যা পৌরসভার ২, ৪ ও ৫ নং ওয়ার্ড পর্যন্ত বিস্তৃত। খালটি এই শহরের পানি নিষ্কাশনের প্রধান জলাশয় বা জলাধার। যেখানে বর্তমান সরকার সকল জলাশয় বা জলাধার খনন ও পুনঃ খননের উদ্যোগ নিয়েছে, সেখানে এমন চিত্র আমাদের ভবিষ্যৎ নগর ব্যবস্থা নিয়ে চিন্তিত করে তোলে। জরুরী ভিত্তিতে স্থানীয় ভূমি প্রশাসন, ইউ এন ও মহোদয় এবং মাননীয় এম পি মহোদয়ের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

উপজেলা রিপোটার্স ক্লাবের সভাপতি ইসমাইল হোসেন বলেন, একদিকে নদী সচল রাখতে সরকারের খনন পরিকল্পনা, অন্যদিকে স্থানীয় প্রভাবশালী ও দলীয় নেতাদের অবাধ ভরাট প্রতিযোগিতা এই দুইয়ের যাঁতাকলে এখন বিপন্ন সূর্বণখালী নদী। প্রশাসনিক তদারকির তীব্র অভাবে প্রকাশ্যে চলছে নদী দখলের উৎসব। উন্নয়ন আর দখলের এই বিপরীতমুখী প্রতিযোগিতার শেষ কোথায়, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

শিমলা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা জিন্নাহ বলেন, ড্রেনেজ পানি নিঃস্কাশনের একমাত্র জায়গা সূবর্ণখালী নদী। প্রভাবশালীদের দাপটে নদীটি মৃত প্রায়। শিমলা বাজারের সর্বস্তরের জনগন নদী ভরাটের প্রতিবাদে আগেও মানব বন্ধন করেছে। উপজেলা প্রশাসন ও পৌর প্রশাসনের নিকট দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবী জানাচ্ছি।

উপজেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবুল হোসেন বলেন, পৌরসভার পয়: নিষ্কাশনের একমাত্র অবলম্বন এ সুবর্ণাখালী নদী। এটির দুইপাড় থেকে দখল করে মাটি ভরাট করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এ দখল বন্ধ করা না গেলে পৌরসভার পয়:নিষ্কাশন ব্যাহত হবে। সুবর্ণাখালী নদীর প্রাণ ফিরে আনাসহ ভূমি উদ্ধার ও দখল মুক্ত করার দাবি উঠেছে।

মোঃ শাজাহান আলী বলেন, এটা জনস্বার্থ ও পরিবেশসহ সামাজিক সংশ্লিষ্ট জরুরী বিষয়। বাজার টিকিয়ে রাখার জন্য উক্ত নদীর হারানো গৌরব ফিরানো সহ পূর্ণ উদ্ধার করা প্রয়োজন। দেশের সম্পদ জনগণের সম্পদ বিবেচনায় করে নদী আইন ও নকশা অনুযায়ী পূর্ণ উদ্ধারে অনুরোধ জানাচ্ছি।

সরিষাবাড়ী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সোলায়মান বাবু বলেন, প্রশাসনের চোখের সামনে ভরাট করে দখল করার মাধ্যমে শিমলা বাজারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুবর্ণখালী নদী ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে। নিজেদের প্রয়োজনেও স্থানীয় এলাকাবাসী কোন প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেনা। সুবর্ণখালী নদী ভরাট হয়ে গেলে এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অচল হয়ে যাবে।

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন এবং স্থানীয় প্রশাসন সরেজমিনে পরিদর্শন ও তদন্তপূর্বক সুবর্ণখালি নদীর সীমানা সিএস রেকর্ড মোতাবেক নির্ধারণ করে সংরক্ষণ ও প্রয়োজনে খননসহ নদীর পরিবেশ ও প্রতিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেছে সুশিল সমাজের প্রতিনিধিরা।



স্বাধীন/সা.এ.

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *