জেলার খবর

নেত্রকোনায় কৃষিপণ্য মেলা, সম্মাননা পেলেন ৩৩ গ্রামীণ নারী

প্রকাশিত :
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
/
১০ বার সংবাদটি দেখেছে

আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উপলক্ষে নেত্রকোনায় গ্রামীণ নারীদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য নিয়ে মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষি, পরিবেশ সংরক্ষণ ও গ্রামীণ ঐতিহ্য রক্ষায় বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ ৩৩ জন নারীকে ‘গ্রামীণ নারী সম্মাননা’ দেওয়া হয়েছে।

সম্মাননাপ্রাপ্তদের মধ্যে নেত্রকোনা সদর উপজেলার ২৫ জন এবং কলমাকান্দা উপজেলার আটজন আদিবাসী নারী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিও রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংগঠন বারসিক এবং সহযোগী সংগঠন গ্রিন কোয়ালিশন কমিটির উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়। নেত্রকোনা সদর উপজেলার ফচিকা এলাকার কুতুবপুর গ্রামের দারোগাবাড়ির আঙিনায় এবং কলমাকান্দা উপজেলায় পৃথকভাবে কৃষিপণ্য মেলা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সদর উপজেলার দারোগাবাড়িতে আয়োজিত মেলায় গ্রামীণ নারীদের উৎপাদিত ৩৬ জাতের সবজি, ২২৫ জাতের ধানবীজ, ৭৩ জাতের সবজিবীজ, ১১ জাতের জৈব বালাইনাশক, ২৭ জাতের অচাষকৃত সবজি, ১৭ জাতের ফল এবং ১৪ ধরনের কুটিরশিল্প পণ্য প্রদর্শন করা হয়। মেলায় গ্রামীণ নারীদের নিজস্ব উদ্যোগে সংরক্ষিত দেশীয় বীজ, বৈচিত্র্যময় ফসল ও পরিবেশবান্ধব কৃষিচর্চার নানা দিক তুলে ধরা হয়।

আয়োজকেরা জানান, গ্রামীণ নারীরা দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় জাতের বীজ সংরক্ষণ, জৈব সার ব্যবহার করে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, কৃষিবৈচিত্র্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক বাস্তুসংস্থান সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাঁদের এই শ্রম ও অবদান অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না। কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় তাঁদের অবদানকে সামাজিকভাবে স্বীকৃতি দিতেই এ সম্মাননার আয়োজন করা হয়েছে।

সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গ্রিন কোয়ালিশন নেত্রকোনা জেলা কমিটির সভাপতি আলপনা বেগম। সঞ্চালনা করেন গ্রিন কোয়ালিশন আটপাড়া উপজেলা কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক ফৌজিয়া নাসরিন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নেত্রকোনা সদর উপজেলার কাইলাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল হক, নেত্রকোনা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ফাহমিদা সুলতানা, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফারজানা পারভীন এবং বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী অহিদুর রহমান।

বক্তারা গ্রামীণ নারীদের কৃষি উৎপাদন, দেশীয় বীজ সংরক্ষণ, খাদ্যনিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষায় অবদানের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, গ্রামীণ নারীদের অভিজ্ঞতা ও ঐতিহ্যবাহী কৃষিজ্ঞান সংরক্ষণ এবং তাঁদের উৎপাদিত পণ্যের যথাযথ মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। এ ধরনের আয়োজন নারীদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় কৃষিবৈচিত্র্য ও গ্রামীণ ঐতিহ্য সংরক্ষণে উৎসাহ জোগাবে।



সাজু/নিএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *