সারাবিশ্ব

গাড়ি চাপায় তিন শিক্ষার্থীকে হত্যা করে যুবক বললেন, ‘বাবা সামলে নেবে’

প্রকাশিত :
সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
/
১০ বার সংবাদটি দেখেছে

ভারতের কেরালা রাজ্যের এরনাকুলাম জেলায় কোচি বিমানবন্দরের কাছে দ্রুতগতির মিনি কুপার গাড়ির ধাক্কায় স্কুটারে থাকা তিন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। রোববার (স্থানীয় সময়) রাত ২টার দিকে নেদুম্বাসেরিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গাড়ির ১৯ বছর বয়সী চালক সুহাইল সাজিভকে আটক করেছে পুলিশ।

অভিযোগ উঠেছে, দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি বলেন, তাঁর বাবা সবকিছু সামলে নেবেন। এদিকে, দুর্ঘটনার সময় চালক মদ্যপ বা অন্য কোনো নেশাজাতীয় পদার্থের প্রভাবে ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে তাঁর রক্ত পরীক্ষার প্রতিবেদন অপেক্ষমাণ।

নিহত তিন শিক্ষার্থীর পরিচয় শনাক্ত

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত তিনজন হলেন দেবিকা, গোপিকা ও ইজাজ। তাঁদের মধ্যে দুজন নারী। দেবিকার বাড়ি কেরালার ওয়েনাড জেলায়, গোপিকা পালাক্কাডের বাসিন্দা। অন্যদিকে, ইজাজের বাড়ি কর্ণাটকে। তাঁরা তিনজনই ত্রিক্কাকারায় কর্মরত ছিলেন।

রোববার রাত ২টার দিকে কাছের একটি দোকানে চা পান শেষে স্কুটারে করে বাড়ি ফিরছিলেন তাঁরা। এ সময় দ্রুতগতির মিনি কুপার গাড়িটি তাঁদের স্কুটারে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনজনই গুরুতর আহত হন।

স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসকেরা তাঁদের বাঁচাতে পারেননি।

দুর্ঘটনার পর চালক সুহাইলকে আটক করে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দুর্ঘটনার আগে অ্যালকোহল পান করার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তাঁর দাবি, তিনি শুধু বিয়ার পান করেছিলেন।

চালক মদ বা অন্য কোনো নেশাজাতীয় পদার্থ গ্রহণ করেছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হতে তাঁর রক্তসহ বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি।

এরনাকুলাম গ্রামীণ পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট কে এস সুদর্শন সাংবাদিকদের জানান, গাড়ির ভেতরে কোনো নেশাজাতীয় পদার্থ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ফরেনসিক পরীক্ষাও চলছে।

প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনার সময় চালক মদ্যপ থাকতে পারেন বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। তবে রক্ত পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পরই এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান পুলিশ সুপার।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, গাড়িটি সুহাইলের বাবার নামে নিবন্ধিত। তবে সুহাইলের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে।

হাসপাতালে চালকের ওপর হামলার অভিযোগ

এদিকে, চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার পর নিহত শিক্ষার্থীদের কয়েকজন বন্ধু সুহাইলের ওপর হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে সুহাইলকে ঘিরে ধরেন কয়েকজন। পরে হাসপাতাল থেকে বাইরে নেওয়ার সময় পেছন দিক থেকে তাঁর মাথায় আঘাত করা হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যরা হস্তক্ষেপ করেন। এ ঘটনায় হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে।

ভিডিওতে ভয়াবহ সংঘর্ষের দৃশ্য

টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে প্রচারিত দুর্ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, একটি প্রশস্ত সড়ক দিয়ে দ্রুতগতিতে ছুটে আসছিল মিনি কুপার গাড়িটি। এ সময় সড়কের বাঁ পাশ দিয়ে চলা স্কুটারটিকে সজোরে ধাক্কা দেয় গাড়িটি।

সংঘর্ষের তীব্রতায় স্কুটারের পেছনে বসা এক নারী আরোহী শূন্যে ছিটকে পড়েন। দুর্ঘটনায় স্কুটারটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং এর বিভিন্ন অংশ সড়কে ছড়িয়ে পড়ে। গাড়িটিও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকায় পুলিশের টহল ও অন্যান্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার কে এস সুদর্শন।

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার তদন্ত চলছে। চালকের রক্ত পরীক্ষার প্রতিবেদন এবং গাড়ির ফরেনসিক পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে



কুশল/সাএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *