
গৌরীপুরের ঐতিহ্যবাহী ঝলমল সিনেমা হলে আগুন, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ঐতিহ্যবাহী ঝলমল সিনেমা হলে আগুন লেগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে পৌর শহরের সিনেমা হলটিতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। তবে সকালে ভবনের ভেতরে থাকা একটি ফার্নিচার কারখানায় আবারও আগুন জ্বলতে দেখা যায়।ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, আগুনের সূত্রপাতের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সিনেমা হলের ভেতরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারের গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। গৌরীপুর ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মো. খবিরুল আলম বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পরে আগুনের তীব্রতা বেড়ে গেলে ঈশ্বরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের দুটি ও ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যোগ দেয়। প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। সকালে আবারও আগুনের সূত্রপাত হলে গৌরীপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশ আমলে নির্মিত ভবনটি একসময় নাট্যশালা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। পরে সেখানে প্রতিষ্ঠা করা হয় ঝলমল সিনেমা হল। দীর্ঘদিন ধরে সিনেমা হলটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
বর্তমানে ভবনটিতে একটি ফার্নিচার কারখানা ও গ্যাস সিলিন্ডারের গোডাউন ছিল। ভবনের সামনের অংশে ছিল ড্রাইভার শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়।অগ্নিকাণ্ডে ফার্নিচার কারখানার বিপুল পরিমাণ কাঠ, নির্মাণাধীন আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি পুড়ে গেছে। কারখানার মালিক ভুট্টো বলেন, আগুন লাগার প্রায় ৩০ মিনিট পর তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। তাঁর দাবি, আগুনে এক কোটি টাকার বেশি মূল্যের মালামাল পুড়ে গেছে।তানভীর এলপিজি স্টোরের মালিক তানভীর আহমেদ বলেন, ঘটনার আগের রাতে ২৫০টি গ্যাসভর্তি সিলিন্ডারের একটি চালান আসে। সিলিন্ডারগুলো গোডাউনে রাখা হয়েছিল। আগুনে সবগুলো পুড়ে গেছে। এতে তাঁর প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ড্রাইভার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. মজনু মিয়া বলেন, সিনেমা হলের মূল ভবনের সামনে তাঁদের কার্যালয় ছিল। আগুনে কার্যালয়টি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। গৌরীপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ বি এম কাউসার জামান বলেন, ঝলমল সিনেমা হলটি রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি। সিনেমা হল পরিচালনার জন্য সরকার এটি লিজ দিয়েছিল। বর্তমানে কারা কীভাবে ভবনটি ব্যবহার করছে এবং অগ্নিকাণ্ডে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সাজু/নিএ
মন্তব্য
0 টি মন্তব্য