জেলার খবর

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য 

প্রকাশিত :
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
/
২০ বার সংবাদটি দেখেছে

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছরের সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। প্রায় দেড় বছর আগে ড. নাহিদা বেগমের নেতৃত্বে পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে আটক হওয়া মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদই বর্তমানে এ হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন চত্বর থেকে গাঁজাসহ ফাহাদসহ সাত কিশোরকে আটক করা হয়। ওই অভিযানে নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. নাহিদা বেগম। পরে আটক কিশোরদের বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় ভবিষ্যতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াবে না—এমন শর্তে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

অভিযানের প্রায় দেড় বছর পর গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

এ ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, প্রধান আসামি ফাহাদ চলতি মাসের ২ সেপ্টেম্বর অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের ইলেকট্রিকের দোকানে কাজ নেয়। অপ্রতিমের বাবা জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে তার স্ত্রীর নেতৃত্বে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক হওয়া সেই কিশোরই বর্তমানে হত্যা মামলার আসামি ফাহাদ।

এ ঘটনায় মায়ের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই মাদকবিরোধী অভিযানের সঙ্গে অপ্রতিম হত্যার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে তদন্তে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

এদিকে অপ্রতিমকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের মাধ্যমে অপরাধের সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তার মা ড. নাহিদা বেগম।

তিনি বলেন, বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে নানা উপায়ে তার ছেলেকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব পালনকালে তিনি মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছেন উল্লেখ করে নাহিদা বলেন, ওই প্রশাসনিক দায়িত্বের কারণে যদি তার ছেলেকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়ে থাকে, তাহলে তা অত্যন্ত নির্মম।

ড. নাহিদা বলেন, তার কোনো দোষ থাকলে তাকে শাস্তি দেওয়া হোক, কিন্তু তার নিষ্পাপ সন্তানকে কেন হত্যা করা হলো—এ প্রশ্নের উত্তর চান তিনি। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন তিনি।



সাজু/নিএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *