জেলার খবর

নোয়াখালীতে সীরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

প্রকাশিত :
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
/
১৭ বার সংবাদটি দেখেছে

নোয়াখালীতে পবিত্র সীরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় (২২ সেপ্টেম্বর) দৈনিক সংগ্রামের আয়োজনে নোয়াখালী প্রেসক্লাব শহীদ উদ্দিন এস্কাদার কচির মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা হয়।

দৈনিক সংগ্রামের নোয়াখালী জেলা সংবাদদাতা বোরহান উদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক সংগ্রাম নোয়াখালী জেলা উপদেষ্টা ইসহাক খন্দকার। সীরাত আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেনীর আল জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদ্রাসা অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ফারুক আহমদ,কবিরহাট সরকারী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা মাহবুর রহমান ওসমানী।অনুষ্ঠানের দোয়া পরিচালনা করেন নোয়াখালী কারামাতিয়া কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ ড.আমিন উল্লাহ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসহাক খন্দকার বলেন, সীরাতুন্নবী (সা.) শুধু একটি ধর্মীয় স্মরণানুষ্ঠান নয়।বরং মহানবী (সা.)-এর জীবন ও কর্ম থেকে শিক্ষা গ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তাঁর আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে সমাজে ন্যায়, মানবিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তিনি বলেন মহানবী (সা.) মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি দুর্বল, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার রক্ষায় যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা বর্তমান সমাজের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে তাঁর জীবনাদর্শ সম্পর্কে জানাতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন সমগ্র মানবজাতির জন্য আদর্শ। তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে মানবতা, ন্যায়বিচার, সহনশীলতা, ভ্রাতৃত্ব, সাম্য ও শান্তির শিক্ষা রয়েছে। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করা গেলে নৈতিক অবক্ষয়, সামাজিক বিভেদ ও অসহিষ্ণুতা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

আলোচনায় সীরাত আলোচকরা বলেন, মহানবী (সা.) এর শৈশব, নবুয়তপ্রাপ্তি, মক্কা ও মদিনার জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং মানবকল্যাণে তাঁর অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

তাঁরা বলেন, মহানবী (সা.) মানুষের প্রতি দয়া, প্রতিবেশীর অধিকার, এতিম ও অসহায়দের প্রতি দায়িত্ব, নারীর মর্যাদা এবং ন্যায়বিচারের বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। বর্তমান সময়ে পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে নানা ধরনের অস্থিরতা, পারস্পরিক অবিশ্বাস ও মূল্যবোধের সংকট দেখা যাচ্ছে। এ অবস্থায় মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে পারস্পরিক সহমর্মিতা, ক্ষমাশীলতা ও দায়িত্ববোধ বাড়ানো প্রয়োজন। তাঁর দেখানো শান্তি ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থার মূলনীতিগুলো মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপরও তাঁরা গুরুত্বারোপ করেন।মহানবী (সা.)-এর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে ব্যক্তিজীবনে সততা, আমানতদারি, দায়িত্বশীলতা ও ন্যায়পরায়ণতা চর্চার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ, আলেম-ওলামা,প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সাংবাদিক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।



বাপ্পি/সা.এ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *