
৫২৯ কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত, এবার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের হুঁশিয়ারি মালিকদের
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন থামছে না। সরকার নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করলেও শ্রমিকেরা কাজে না ফিরলে কারখানা বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পোশাকশিল্পের মালিকেরা। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শ্রম আইন অনুযায়ী কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে পারে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। চলমান শ্রমিক অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনটির সাধারণ সদস্যদের নিয়ে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
সভা শেষে মাহমুদ হাসান খান জানান, কয়েকজন উদ্যোক্তা পরদিন থেকেই কারখানা বন্ধের পক্ষে মত দিলেও অধিকাংশ মালিক উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখার পক্ষে অবস্থান নেন। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এবং কারখানায় বিশৃঙ্খলা চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে পারে।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘মজুরি বোর্ড গঠনের পর আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, শ্রমিকেরা শান্তিপূর্ণভাবে কারখানায় কাজে ফিরে যাবেন। এখন যদি আন্দোলনের নামে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হয়, তাহলে আমাদের ধরে নিতে হবে, তাদের অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে।’
তিনি আরও জানান, শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিলে বা কারখানায় বিশৃঙ্খলা অব্যাহত থাকলে শ্রম আইন অনুযায়ী কারখানা বন্ধ রাখার সুযোগ রয়েছে।
মিরপুর, আশুলিয়া ও গাজীপুরে বিক্ষোভ-সংঘর্ষ
এদিকে মজুরি বাড়ানোর দাবিতে রোববারও রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। মিরপুর, সাভারের আশুলিয়া এবং গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকেরা সড়কে নেমে আন্দোলন করেন। কোথাও কোথাও সড়ক অবরোধের পাশাপাশি পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ বক্স ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
পরিস্থিতির কারণে মিরপুরে মেট্রোরেলের তিনটি স্টেশনে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখতে হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে চলাচল আবার শুরু হয়।
৫২৯ কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত
বিজিএমইএর হিসাব অনুযায়ী, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে রোববার পাঁচটি শিল্পাঞ্চলের ৫২৯টি কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এসব কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেন।
এর মধ্যে মিরপুরের ৬৮টি কারখানা রয়েছে। এ ছাড়া গাজীপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের ২৭৬টি এবং সাভার, আশুলিয়া ও জিরানী এলাকার ১৮৫টি কারখানায় শ্রমিকেরা কাজে যোগ দেননি।
বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন এসব কারখানার প্রায় ৯ লাখ ৮৭ হাজার ১৯০ শ্রমিক কর্মস্থল ত্যাগ করেন। সব মিলিয়ে পাঁচটি শিল্পাঞ্চলের ২ হাজার ১৩৪টি কারখানার তথ্যের ভিত্তিতে এ হিসাব তৈরি করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের পরও আন্দোলন অব্যাহত থাকায় পোশাকশিল্পে উৎপাদন ও কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্বাধীন/সা.এ.
মন্তব্য
0 টি মন্তব্য