
হাসপাতাল থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার মা-বাবা-বোনসহ পরিবারের ৮ জন গ্রেপ্তার
সুনামগঞ্জে সরকারি কাজে বাধা এবং পুলিশের ওপর হামলা করে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতা, তার বাবা-মা, ভাই-বোনসহ আটজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে পুলিশের করা মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রতন শেখ।
কারাগারে পাঠানো ব্যক্তিরা হলেন সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্স, তার বাবা দেওয়ান শাহরুখ রাজা চৌধুরী, মা শাম্মী আক্তার পলি, ভাই ফাহিম রাজা চৌধুরী ও দেওয়ান শাহরিয়ার চৌধুরী পিয়াল এবং বোন সাবরিনা চৌধুরী রূপকথা। বাকি দুজন প্রিন্সের বন্ধু ও সহযোগী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) মধ্যরাতে সিলেট নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফরিদ হোসেন বাদী হয়ে প্রিন্সসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় প্রিন্সকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে গভীর রাতে থানা হাজতে তাকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হাসপাতালে নেওয়ার কিছুক্ষণ পর প্রিন্স খিঁচুনির মতো আচরণ করতে থাকেন। এ সময় তার পরিবারের সদস্য ও নিষিদ্ধ সংগঠনের লোকজন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে প্রিন্স মারা গেছেন বলে গুজব ছড়িয়ে তারা দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রিন্সকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। রাত দেড়টার দিকে তার বাবা শাহরুখ রাজা পুলিশি নির্যাতনে ছেলে মারা গেছেন বলে চিৎকার ও কান্নাকাটি শুরু করেন বলে মামলার বিবরণে বলা হয়েছে।
এ সময় পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দায়িত্বরত পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে প্রিন্সকে ছিনিয়ে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার দুই দিন পর শনিবার মধ্যরাতে সিলেটের কুইন্স হাসপাতাল থেকে প্রিন্সকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় তার বাবা-মা, দুই ভাই, এক বোন এবং দুই বন্ধুকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি মোহাম্মদ রতন শেখ বলেন, গ্রেপ্তার আটজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সাজু/নিএ
মন্তব্য
0 টি মন্তব্য