সারাবিশ্ব

ফোনে পারমাণবিক হামলার ‘ভুয়া বার্তা’, আতঙ্কিত লাখ লাখ মানুষ

প্রকাশিত :
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬
/
৩ বার সংবাদটি দেখেছে

রাশিয়ার সম্ভাব্য পারমাণবিক হামলার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ইউক্রেনজুড়ে। দেশটির বহুল ব্যবহৃত ‘এয়ার অ্যালার্ট’ অ্যাপে একের পর এক ভুয়া সতর্কবার্তা পাঠিয়ে দাবি করা হয়, রুশ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘ওরেশনিক’ দিয়ে পারমাণবিক হামলা চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে তেজস্ক্রিয়তা, রাসায়নিক হামলা ও সড়কে সংঘর্ষের সতর্কবার্তাও। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানায়, অ্যাপটি সাইবার হামলার শিকার হয়ে থাকতে পারে। বাস্তবে কোনো তেজস্ক্রিয়তার হুমকি নেই।

রোববার (১ নভেম্বর) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৪৮ মিনিটে অ্যাপটিতে প্রথম দফায় ভুয়া সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। একটি বার্তায় বলা হয়, কিয়েভে তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকতে, গ্যাস মাস্ক ব্যবহার করতে এবং আয়োডিন গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়।

এরপর রুশ ভাষায় আরেকটি বার্তা পাঠানো হয়। তাতে বলা হয়, ‘চিন্তার কিছু নেই, মাথার ওপর একটি ওরেশনিক উড়ছে। সমগ্র ইউক্রেনজুড়ে পারমাণবিক সতর্কবার্তা চালু করা হয়েছে।’

এ ছাড়া রাসায়নিক হামলা ও রাস্তায় সংঘর্ষের সতর্কবার্তাও পাঠানো হয়। এসব বার্তায় বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে এবং মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে বলা হয়।

প্রায় ১০ মিনিট পর ইউক্রেনের বিমানবাহিনী টেলিগ্রামে জানায়, ‘এয়ার অ্যালার্ট’ অ্যাপটি সম্ভবত শত্রুপক্ষের হস্তক্ষেপ বা সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। একই সঙ্গে তারা স্পষ্ট করে জানায়, তেজস্ক্রিয়তার কোনো হুমকি নেই। সবাইকে শান্ত থাকার এবং বিমানবাহিনীর আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়।

ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, অ্যাপটিতে অস্বাভাবিক ও বিভ্রান্তিকর সতর্কবার্তা ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের কর্মকর্তারাও বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হয়ে সরকারি তথ্যের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দেন।

রুশ ভাষার বার্তা ঘিরে সন্দেহ

ইউক্রেনের সরকারি যোগাযোগে ইউক্রেনীয় ভাষা ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু ভুয়া পারমাণবিক সতর্কবার্তাটি রুশ ভাষায় পাঠানো হয়েছিল। এ কারণে ঘটনাটিকে রুশপক্ষের সম্ভাব্য নাশকতা হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে সাইবার হামলার পেছনে কারা জড়িত, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ইউক্রেনের কৌশলগত যোগাযোগবিষয়ক সংস্থা স্প্রাভদি (SPRAVDI) এ ঘটনার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছে। তবে অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

প্রতিদিন ব্যবহার করেন ৭০ লাখ মানুষ

ইউক্রেনের ‘এয়ার অ্যালার্ট’ অ্যাপটি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সতর্কবার্তা দিতে ব্যবহৃত হয়। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের বাসিন্দারা এই অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পান। বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ক্ষেত্রে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য অনেক সময় হাতে থাকে মাত্র কয়েক মিনিট।

অ্যাপটির প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাজাক্স সিস্টেমসের (Ajax Systems) তথ্যমতে, প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ মানুষ অ্যাপটি ব্যবহার করেন। এ পর্যন্ত এটি ৪ কোটি ৬০ লাখের বেশি বার ডাউনলোড করা হয়েছে। ফলে অ্যাপটিতে ভুয়া সতর্কবার্তা ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি তৈরির ঝুঁকি বাড়িয়েছে।

রাশিয়ার জরুরি সেবা অ্যাপেও সাইবার হামলা

ইউক্রেনের ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর রাশিয়ার জরুরি পরিস্থিতি মন্ত্রণালয়ও জানায়, তাদের মোবাইল অ্যাপ সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) মন্ত্রণালয় জানায়, বড় ধরনের সাইবার হামলার মাধ্যমে অ্যাপ ব্যবহারকারীদের কাছে ভুয়া তথ্য পাঠানো হয়েছে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসের (TASS) খবরে বলা হয়, হামলার কারণে অ্যাপটির মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের কাছে বিভ্রান্তিকর বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। অ্যাপটির কার্যক্রম পুনরুদ্ধারে কাজ চলছিল বলেও জানানো হয়।

রাশিয়ার জরুরি পরিস্থিতি মন্ত্রণালয়ের অ্যাপটি বিমান হামলা, ড্রোন আক্রমণসহ বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতির সতর্কবার্তা দিতে ব্যবহৃত হয়। তবে ইউক্রেন ও রাশিয়ার অ্যাপ দুটিতে হামলার মধ্যে কোনো সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।

দুই দেশের জরুরি সতর্কবার্তা ব্যবস্থায় পরপর সাইবার হামলার ঘটনা চলমান যুদ্ধের মধ্যে ডিজিটাল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে মানুষের জীবন রক্ষায় ব্যবহৃত সতর্কবার্তা ব্যবস্থায় ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে পড়লে তা আতঙ্কের পাশাপাশি প্রকৃত বিপদের সময় জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করতে পারে।

সূত্র – এএফপি, রয়টার্স, তাস



স্বাধীন/সা.এ.

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *