আইন ও আদালত

রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজ ৪ দিনের রিমান্ডে

প্রকাশিত :
রোববার, ১ নভেম্বর, ২০২৬
/
১ বার সংবাদটি দেখেছে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক প্রচারণা, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে অর্থায়ন এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে করা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর ড. খন্দকার আব্দুল হাফিজের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রবিবার (১ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল হাসান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

শুনানির সময় খন্দকার আব্দুল হাফিজকে আদালতে হাজির করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী হারুন অর রশীদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। পরে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, খন্দকার আব্দুল হাফিজ তাঁর সহযোগী অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরা ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষসহ অন্য আসামিদের সহায়তায় সরকারবিরোধী বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করতেন। পাশাপাশি সহিংসতায় উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হতো বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত ‘ইউনিটি কেয়ার’ ও ‘পাবলিক পার্লামেন্ট’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছিল। এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নিষিদ্ধ সংগঠনের পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রবিরোধী সহিংস কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনার অভিযোগও আনা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, ‘Khondokar A Hafiz’ নামের ফেসবুক আইডিসহ বিভিন্ন পেজ থেকে সহিংসতা উসকে দেওয়ার মতো কনটেন্ট প্রচার করা হতো। এসব প্রচারণার মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা এবং পুলিশ হত্যার পক্ষে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া গত ৫ আগস্টের পর থেকে সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক প্রচারণা এবং দেশি-বিদেশি গুপ্তচরদের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পাওয়ার কথাও রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিমান্ড আবেদনে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলা হয়, মামলার অন্য সহযোগীদের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত, কথিত রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত দেশি-বিদেশি ব্যক্তিদের চিহ্নিত, ডিজিটাল আলামত উদ্ধার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচালিত অন্য কোনো গোপন পেজ বা ওয়েবসাইট রয়েছে কি না, তা জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

এ ছাড়া জব্দ করা আলামত যাচাই, মামলার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং কথিত পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের জন্যও রিমান্ড চাওয়া হয়।

এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে খন্দকার আব্দুল হাফিজকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

মামলাটি গত ১২ অক্টোবর রাজধানীর পল্লবী থানায় দায়ের করা হয়। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক মো. আলী আকবর বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আসামিরা ‘ইউনিটি কেয়ার’ ও ‘পাবলিক পার্লামেন্ট’ প্ল্যাটফর্ম এবং বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদসহ পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে অর্থ সংগ্রহ, ‘কালআজকাল.কম’ ফেসবুক পেজ ও টকশোর মাধ্যমে উসকানিমূলক প্রচারণা এবং ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ গঠনের অভিযোগও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও দাবি করা হয়, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্যক্তির যোগসাজশে ৫ আগস্টের পর থেকে সরকারবিরোধী রাষ্ট্রদ্রোহমূলক ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন আসামিরা। এসব অভিযোগের তদন্ত করছে পুলিশ।



বাপ্পি/সা.এ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *