জেলার খবর

দেশে প্রথমবারের মতো অতিপ্রক্রিয়াজাত খাদ্যে ফ্রন্ট অব প্যাক সতর্কবার্তা প্রচারণা শুরু

প্রকাশিত :
রোববার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬
/
৯ বার সংবাদটি দেখেছে

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো, অতিপ্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও পানীয়র মোড়কের সামনে (ফ্রন্ট অব প্যাক লেভেল ওয়ার্নিং) সতর্কবার্তার মাসমিডিয়া ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে, বাংলাদেশে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস-সম্পর্কিত হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, ক্যান্সারসহ বিভিন্ন ধরণের প্রাণঘাতী অসংক্রামক রোগের ক্রমবর্ধমান হার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে এফওপিএল প্রচলনের লক্ষ্যে এই প্রচারণা শুরু হয়েছে।

আজ রোববার (২৫ অক্টোবর২০২৬ইং) বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এই প্রচারণা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. শফিকুল ইসলাম। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউট এর রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. সোহেল রেজা চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (খাদ্য শিল্প ও উৎপাদন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব ও গ্লোবাল হেলথ এডভোকেসি ইনকিউবেটর-এর কান্ট্রি লিড মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস।

ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিভাগের পরিচালক ইকবাল মাসুদ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট এর নির্বাহী পরিচালক সাইফুদ্দিন আহমেদ, প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের ও সিএলপিএ’র সেক্রেটারি এড. সৈয়দ মাহবুবুল আলম।

ক্যাম্পেইনটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে কোয়ালিশন অব হেলথি ফুড, সেন্টার ফর ল এন্ড পলিসি এফেয়ার্স (সিএলপিএ), ঢাকা আহছানিয়া মিশন, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি) ট্রাস্ট।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএফএসএ চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নিরাপদ খাদ্য আইনের আওতায় প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ-এর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য নিরাপদ খাদ্য আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে অতিপ্রক্রিয়াজাত অস্বাস্থ্যকর মোড়কজাত খাদ্য ও পানীয়, যেগুলোতে অতিরিক্ত চিনি, লবন ও সম্পৃক্ত চর্বি ব্যবহার করা হয়, সেসব খাদ্য ও পানীয় সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে মোড়কের সামনে সতর্কবার্তা যা ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেল (এফওপিএল) ওয়ার্নিং নামে পরিচিত, এমন প্রয়োজনীয় প্রবিধানমালা প্রণয়নও আমাদের উদ্দেশ্য। আমরা সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কোন কোন খাবার বা পানীয়তে অতিরিক্ত পরিমাণে চিনি, লবণ এবং সম্পৃক্ত চর্বি (স্যাচুরেটেড ফ্যাট) রয়েছে, তা ভোক্তাদের দ্রুত শনাক্ত করতে সাহায্য করে প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্যের মোড়কের সামনের অংশে অষ্টভুজ আকৃতির সতর্কবার্তা (এফওপিএল)। এ সতর্কবার্তা মানুষকে সচেতন ও সঠিক খাদ্য নির্বাচন করতে সহায়তা করে এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্য ও পানীয় কেনা নিরুৎসাহিত করে। খাদ্যপরিবেশ উন্নত করা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস-সম্পর্কিত রোগের বোঝা কমানোর ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিজ্ঞানভিত্তিক নীতি হিসেবে বিবেচিত।

গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১%-এর জন্য অসংক্রামক রোগ দায়ী, যার মধ্যে হৃদরোগ এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিস অন্যতম প্রধান কারণ। এছাড়া, বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে অতিরিক্ত ওজনের হার প্রায় ৩১.৮%, এবং ১৩.৪% মানুষ স্থূলতায় আক্রান্ত। অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং স্ট্রোকসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।

সাত সপ্তাহব্যাপী এই প্রচারণা টেলিভিশন, রেডিও, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন ও মুদ্রিত সংবাদপত্র এবং গুগল বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এ প্রচারণা কর্মসূচির লক্ষ্য হলো সাধারণভাবে ব্যবহৃত প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্যে থাকা অস্বাস্থ্যকর উপাদান এবং অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটের প্রতি জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। এছাড়া, বাংলাদেশে প্যাকেটজাত খাদ্য ও পানীয়ের ওপর এফওপিএল সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সরকারকে সহায়তা করাও এই প্রচারণার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য। প্রচারণার উপকরণের মধ্যে রয়েছে ভিডিও ও অডিও বিজ্ঞাপন, স্থিরচিত্র (স্ট্যাটিক ইমেজ) এবং জনসচেতনতামূলক অন্যান্য বিষয়বস্তু। এসব উপকরণ অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পৃষ্ঠাগুলোর মাধ্যমেও প্রচার করা হবে।



স্বাধীন/সা.এ.

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *