জেলার খবর

দেশে ক্রমবর্ধমান মব জাস্টিস ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় বিএইচআরএফ-এর ক্ষোভ প্রকাশ

প্রকাশিত :
রোববার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬
/
৫ বার সংবাদটি দেখেছে

সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে গণপিটুনি ও মব জাস্টিস, কারাহাজতে সন্দেহজনক মৃত্যু, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা এবং নারী ও শিশুদের ওপর বরবর নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন (বিএইচআরএফ)-এর চেয়ারম্যান এডভোকেট এলিনা খান এবং মহাসচিব এডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এই বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

সাম্প্রতিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ তথ্যে উঠে এসেছে একাধিক নৃশংস ঘটনার চিত্র— নোয়াখালীতে ৪৩ বছর বয়সী এক রিকশাচালককে মব জাস্টিসের নামে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে; শরীয়তপুরে বস্তাবন্দী অবস্থায় গলাকাটা উদ্ধার করা হয়েছে মাত্র ৩ বছরের এক অবোধ শিশুর লাশ। এছাড়া সেপ্টেম্বর মাসের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২৩৬ জন নারী ও শিশু সহিংসতার শিকার হয়েছেন (যার মধ্যে ৭৯টি ধর্ষণের ঘটনা), ৯ জন মব ভায়োলেন্সে প্রাণ হারিয়েছেন এবং কারাহাজতে মৃত্যু হয়েছে ২১ জনের।

চলতি বছরের প্রথম ৮ মাসে (জানুয়ারি-আগস্ট) নারী নির্যাতনের সংখ্যা ২৭,০০০ ছাড়িয়ে গেছে। কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং রাজবাড়ী ও রাজশাহীতে শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নের চেষ্টা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষাখাতেও চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হয়েছে, যেখানে মব হ্যারাসমেন্টের শিকার হয়ে ১,২০০ এরও বেশি শিক্ষক কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না এবং আরএমইউ-এর উপাচার্যকে বন্দুকের মুখে পদত্যাগে বাধ্য করার নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে বিএইচআরএফ-এর চেয়ারম্যান এডভোকেট এলিনা খান বলেন, “মব জাস্টিসের নামে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি রাষ্ট্রকে এক চরম অরাজকতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।” মহাসচিব এডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান বলেন, “কারাহাজতে মৃত্যু ও নারী-শিশুদের ওপর এ ধরনের পাশবিক নির্যাতন কোনো সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না। নাগরিকদের জীবন ও মর্যাদা রক্ষা করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।”

বিএইচআরএফ-এর পক্ষ থেকে এসব প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোরালো দাবি জানানো হচ্ছে।



স্বাধীন/সা.এ.

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *