জেলার খবর

একদল ‘দুখানি শক্তিশালী হাতের’ জন্য দোয়াও করছেন

প্রকাশিত :
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬
/
১৩ বার সংবাদটি দেখেছে

এক পক্ষের কাছে তিনি নায়ক, অন্য পক্ষের চোখে অপরাধী—একটি ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে পাল্টাপাল্টি অবস্থান। এবার সেই বিতর্ক সামনে এনে প্রশ্ন তুলেছেন গোলাম মাওলা রনি।

একদল মানুষ একজন ব্যক্তিকে সমর্থন করছেন এবং রীতিমতো হিরো হিসেবে উপস্থাপন করে উল্লাস করছেন। তাঁর ‘দুখানি শক্তিশালী হাতের’ জন্য দোয়াও করছেন তাঁরা।

অন্যদিকে, আরেকটি পক্ষের অভিযোগ—ব্যক্তিটি একজন ‘মাসুম আলেমকে’ আঘাত করেছেন এবং লোকজন নিয়ে একটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠানে মব সৃষ্টি করেছেন। তাঁদের ভাষায়, এমন কর্মকাণ্ডের জন্য ওই ব্যক্তি জাহান্নামি। পাশাপাশি তাঁর বিচারের দাবিতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিচ্ছেন তাঁরা।

একই ব্যক্তিকে ঘিরে এমন দুই বিপরীত অবস্থানের মধ্যে কোন পক্ষ সঠিক—সেই প্রশ্নই সামনে এনেছেন গোলাম মাওলা রনি।

তিনি লিখেছেন, “আচ্ছা আপনি বলুন তো—কোন দল সঠিক?”

একদল ‘দুখানি শক্তিশালী হাতের’ জন্য দোয়াও করছেন

 

কী ঘটেছে..
গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রথম শ্রেণির সাত বছর বয়সী এক ছাত্রীকে হেনস্থা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে একটি মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মুসলেউদ্দিন। তিনি টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ‘ক্বরীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র উপাধ্যক্ষ (ভাইস প্রিন্সিপাল) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (২০ অক্টোবর) ক্বরীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার ভেতরে প্রথম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে হেনস্থা ও অশালীন আচরণ করেন উপাধ্যক্ষ মুসলেউদ্দিন। ঘটনার পর বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য শিশুটিকে মারধরের হুমকি দেন তিনি। এই হুমকির মুখে শিশুটি মারাত্মক আতঙ্কে পড়ে যায় এবং টানা তিন দিন মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ করে দেয়।

পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে চাইলে শিশুটি তার ওপর ঘটা শারীরিক হেনস্থার কথা বাবা-মায়ের কাছে প্রকাশ করে। বিস্তারিত জানার পর বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে শিশুটির বাবা সরাসরি মাদ্রাসায় গিয়ে উপাধ্যক্ষ মুসলেউদ্দিনের কাছে এ বিষয়ে জবাব চান।

ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে ঘেরাও করে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদকালে অভিযুক্ত শিক্ষক নিজের অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন জানান, অভিযুক্ত শিক্ষককে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে আটক করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে এবং এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার ওই শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিকে ঘটনার পর পাল্টাপাল্টি অভিযোগও উঠেছে। মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ বারীজুল আলমগীর হোসেন দাবি করেছেন, এক অভিভাবকের নেতৃত্বে ১৫ জনের একটি দল মাদ্রাসায় প্রবেশ করে হামলা, ভাঙচুর, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মারধর, শ্লীলতাহানি এবং প্রায় ১৭ লাখ টাকা লুট করেছে। তবে পুলিশ বা নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে এই অর্থ লুটের অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

অন্যদিকে পুরো ঘটনার ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ তোলে, একটি পক্ষ এই ভিডিও ছড়িয়ে ঘটনাটিকে ‘মাদ্রাসায় সন্ত্রাসী হামলা’ বলে প্রচার করে মূল ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।



সাজু/নিএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *