জেলার খবর

সাভারে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, শিক্ষকের স্ত্রী গ্রেপ্তার

প্রকাশিত :
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬
/
৬ বার সংবাদটি দেখেছে

ঢাকার সাভারে তোহফাতুল জান্না মহিলা মাদ্রাসার ১৩ বছর বয়সী এক ছাত্রীর ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসার মালিক ও প্রধান শিক্ষক মাওলানা মো. আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ধর্ষণে সহায়তা ও ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে তাঁর স্ত্রী মোছা. তোহফাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২২অক্টোবর) মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোশাররফ হোসেন। এরআগে বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে সাভার উপজেলার বিরুলিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত ওই মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটির দাদা বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি বিরুলিয়া ইউনিয়নের তোহফাতুল জান্না মহিলা মাদ্রাসার দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে অন্য ছাত্রীদের সঙ্গে থাকত। অপর একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন মাদ্রাসার মালিক ও প্রধান শিক্ষক মাওলানা মো. আব্দুল বারী (৫০) এবং তাঁর স্ত্রী মোছা. তোহফা (৪০)।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বুধবার সকাল ১০টার দিকে শিশুটি দ্বিতীয় তলা থেকে জুতা আনতে নিচতলায় গেলে আব্দুল বারী তাকে জোরপূর্বক মাদ্রাসার অফিসকক্ষের পাশের একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটি চিৎকার করার চেষ্টা করলে তার মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে শিক্ষকের স্ত্রী তোহফা সেখানে উপস্থিত হয়ে শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখান এবং বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য হুমকি দেন বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় অভিযুক্ত শিক্ষকও ঘটনাটি কাউকে জানালে শিশুটিকে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ সময় মাদ্রাসার বাবুর্চি তানজিলা (২৭) সেখানে উপস্থিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষক তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে দ্বিতীয় তলায় চলে যান। পরে শিশুটি মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে বাড়িতে গিয়ে কান্নাকাটি করতে থাকে এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার বিবরণ দেয়।

বিষয়টি জানার পর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষকের স্ত্রী তোহফাকে আটক করেন। তবে এর আগেই কৌশলে মাদ্রাসার মালিক ও প্রধান শিক্ষক আব্দুল বারী পালিয়ে যান।

সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ভুক্তভোগী শিশুটির দাদা বাদী হয়ে বুধবার দিবাগত রাতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের মামলা করেছেন। মামলায় মাদ্রাসার মালিক ও তাঁর স্ত্রীকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, শারীরিক পরীক্ষার জন্য ভুক্তভোগী শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে।



বাপ্পি/সা.এ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *