জেলার খবর

বিবাহ নিবন্ধনের নতুন আইন এলে কাজিদের অধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে: কাদের কিবরিয়া

প্রকাশিত :
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬
/
৮ বার সংবাদটি দেখেছে

‘শহীদ জিয়ার কর্মময় জীবন ও ওলামা মাশায়েখদের মর্যাদা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় নিকাহ্ নিবন্ধকের (কাজি) অবসর বা মৃত্যু হলে সেই পদে পরীক্ষা ছাড়াই সরাসরি ছেলেসন্তানের নিয়োগের দাবি জানিয়েছে জাতীয় নিকাহ্ নিবন্ধক ঐক্যজোট।

সোমবার ১৯ অক্টোবর ২০২৬ইং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘শহীদ জিয়ার কর্মময় জীবন ও ওলামা মাশায়েখদের মর্যাদা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ দাবি জানান ঐক্যজোটের নেতারা। নিকাহ্ নিবন্ধক ঐক্যজোটের প্রধান শরিক সংগঠন বাংলাদেশ কাজি সমিতির উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মুসলিম নিকাহ্ রেজিস্ট্রার কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ও জাতীয় নিকাহ্ নিবন্ধক ঐক্যজোটের মুখপাত্র কাজি ছাব্বীর বলেন, ‘বর্তমানে বিধান আছে ইন্টারভিউ এর মাধ্যমে কাজি সাহেবদের ছেলের নিয়োগ হবে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ পাস করে তাকে আসতে হবে। আমরা চাচ্ছি, পাস করুক আর ফেল করুক, কাজি সাহেবদের ছেলের সরাসরি নিয়োগ হোক।’ সভায় নিকাহ নিবন্ধক সংগঠনের নেতারা আরও বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। এরমধ্যে রয়েছে-নিকাহ নিবন্ধকদের অধিক্ষেত্র সুরক্ষা, শূন্য পদে অবিলম্বে স্থায়ী নিয়োগ, বিধি অনুযায়ী শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত নিকাহ রেজিস্ট্রারদের নিয়োগ বহাল রাখা ইত্যাদি।

সভায় বিবাহ নিবন্ধনের নতুন আইন এলে কাজিদের অধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন নেতারা। জাতীয় নিকাহ নিবন্ধক ঐক্যজোটের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ কাজি সমিতির সভাপতি কাজি ড. এ এস এম কাদের কিবরিয়া বলেন, সরকার হতদরিদ্র মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। সেখানে কাজিদের আর্থিক নিরাপত্তা কীভাবে বিঘ্নিত হবে, সেই প্রশ্নও বিবেচনায় রাখতে হবে। একটি গোষ্ঠী সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা আলেমদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে তাঁদের সরকারের মুখোমুখি করার চেষ্টা করছে। আপনারা তাদের পাতা ফাঁদে পা দেবেন না। সরকার এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না, যাতে কারও ক্ষতি হয়। তাই এ বিষয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য আমি সবাইকে অনুরোধ করছি।

সভায় নিকাহ নিবন্ধকেরা একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) বিরুদ্ধে কাজিদের অধিকার ক্ষুণ্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ তোলেন। জাতীয় নিকাহ নিবন্ধক ঐক্যজোটের সদস্যসচিব ও বাংলাদেশ ইউনিয়ন নিকাহ রেজিস্ট্রার কল্যাণ সমিতির সভাপতি কাজি মোজাম্মেল হোসাইন একটি এনজিওর নাম উল্লেখ করে বলেন, বিভিন্ন উপজেলায় সালিসি বৈঠক করা হচ্ছে। এসব বৈঠকে কাজিদের স্বাক্ষর নিয়ে পরে বলা হচ্ছে, কাজিরা রাজি আছেন, সাংবাদিকেরা রাজি আছেন, জনগণও রাজি আছে। অথচ স্বাক্ষর নেওয়ার পর সেগুলো কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সে বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। অতীতেও বিভিন্ন সময়ে আমরা সংকটের মুখোমুখি হয়েছি। এখন ডিজিটাল ব্যবস্থার নামেও হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মোজাম্মেল হোসাইন আরও বলেন, আমাদের দাবি আদায়ে সরকারকে আরও সচেতন করতে হবে। তবে এ জন্য নিজেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা যাবে না। ঐক্যবদ্ধভাবে সরকারের কাছে দাবি জানাতে হবে এবং আলোচনার মাধ্যমে অধিকার আদায়ের চেষ্টা করতে হবে। আমাদের ঐক্যই হবে দাবি আদায়ের প্রধান শক্তি। পেশা ও অধিকার রক্ষায় আমাদের সচেতন থাকতে হবে। পেশার ভেতরে ও বাইরে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা থাকতে পারে। এ কারণে নিজেদের মধ্যে ঐক্য ধরে রাখা জরুরি।

সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নিকাহ নিবন্ধক ঐক্যজোটের যুগ্ম আহ্বায়ক কাজি ছৈয়দ মুহাম্মদ আবু ছাইদ, বাংলাদেশ কাজি সমিতির মহাসচিব কাজি মাওলানা মো. মাসিহুর রহমান প্রমুখ।



স্বাধীন/সা.এ.

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *