রাজনীতি

নিজের ছেলে লন্ডনে পড়ে, পরের ছেলে রাস্তায় মরে: হাসনাত আবদুল্লাহ

প্রকাশিত :
রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
/
১১ বার সংবাদটি দেখেছে

রাজনীতিবিদদের সন্তানদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে বিদেশে পাঠানো এবং সাধারণ কর্মীদের সন্তানদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার প্রবণতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণির সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রাজনীতিবিদদের কথিত দ্বিমুখী আচরণের সমালোচনা করেন তিনি।

চিফ হুইপ তাঁর বক্তব্যে বলেন, তাঁর তিন ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। তাঁরা জন্ম থেকেই দেশটির নাগরিক এবং সেখানে ভালো চাকরি করে শান্তিতে জীবনযাপন করছেন।

এই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে হাসনাত আবদুল্লাহ দেশের রাজনীতিবিদদের দেশপ্রেম ও সাধারণ রাজনৈতিক কর্মীদের প্রতি তাঁদের দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, রাজনীতিবিদেরা নিজেদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এতটাই সতর্ক যে তাঁদের বিদেশে পাঠিয়ে নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করেন। অথচ দেশের সাধারণ পরিবারের সন্তানদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যবহার করে তাঁদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেন।

হাসনাতের অভিযোগ, অনেক সাধারণ কর্মী নেতাদের পেছনে সময় ব্যয় করতে গিয়ে নিজের জীবন ও পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালনের সুযোগ হারান। অথচ রাজনৈতিক নেতাদের সন্তানদের জীবনযাপন ও ভবিষ্যতের সঙ্গে এসব কর্মীর পরিবারের বাস্তবতার রয়েছে বড় ধরনের ব্যবধান।

এই বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, অর্থের অভাবে সাধারণ রাজনৈতিক কর্মীদের সন্তানদের অসুস্থ অবস্থায় চানখাঁরপুলের হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। অন্যদিকে, রাজনীতিবিদদের সন্তানেরা বিদেশে, এমনকি লিভারপুলের মতো জায়গায়ও স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করেন।

রাজনীতির এই দ্বিমুখী বাস্তবতার সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ লেখেন, ‘নিজের ছেলে লন্ডনে পড়ে, পরের ছেলে রাস্তায় মরে।’

তাঁর এই বক্তব্যে রাজনীতিবিদদের ব্যক্তিগত স্বার্থ এবং সাধারণ কর্মীদের ত্যাগের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্যের বিষয়টি উঠে এসেছে। একই সঙ্গে তরুণদের প্রতি প্রচলিত অন্ধ রাজনৈতিক আনুগত্য থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের ভবিষ্যৎ, পরিবার ও জীবনের মূল্য উপলব্ধি করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।



কুশল/সাএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *