সারাবিশ্ব

হরমুজ প্রণালিতে আইফোন ও পারফিউম সংগ্রহে জেলেদের হিড়িক

প্রকাশিত :
রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
/
১৪ বার সংবাদটি দেখেছে

ইরানের উপকূলীয় এলাকায় হরমুজ প্রণালির কাছে ডুবে যাওয়া একটি পণ্যবাহী জাহাজ থেকে আইফোন, ফরাসি পারফিউমসহ বিভিন্ন পণ্য সংগ্রহ করতে সমুদ্রে ছুটছেন স্থানীয় জেলেরা। ছোট মাছ ধরার নৌকা ও উদ্ধারকারী নৌযান নিয়ে শত শত মানুষ ভাসমান ও আংশিক ডুবে থাকা কনটেইনারের কাছে ভিড় করছেন। এ ঘটনায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাঁদের পানি থেকে পণ্যের বাক্স টেনে তুলতে দেখা গেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির ১৭ অক্টোবরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৪ অক্টোবর ‘জিএফএস প্রাইড’ নামের পণ্যবাহী জাহাজটি ডুবে যায়। জাহাজটিতে দুই হাজার ৫০০টির বেশি কনটেইনার ছিল। এর মধ্যে আইফোন ১৮ ও ফরাসি সুগন্ধিসহ বিভিন্ন পণ্য ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, জেলেরা ছোট নৌকা নিয়ে ডুবে থাকা কনটেইনারের আশপাশে ঘোরাফেরা করছেন। কেউ কেউ বাক্স তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। একটি ভিডিওতে একটি ছোট নৌকাকে আস্ত একটি শিপিং কনটেইনার টেনে নেওয়ার চেষ্টা করতেও দেখা যায়।

এক ব্যক্তি ভিডিওতে বলেন, তাঁরা হরমুজ প্রণালির দিকে যাচ্ছেন। একটি কনটেইনারবাহী জাহাজ ডুবে যাওয়ার খবর শুনে তাঁরা আইফোন ও পারফিউম সংগ্রহ করতে বের হয়েছেন।

কীভাবে ডুবল জাহাজটি?
জাহাজটি সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ছিল। সিঙ্গাপুরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাহাজটিতে আগুন লাগার পর সেটি ডুবে যায়। এ ঘটনায় জাহাজের ২১ জন ক্রুকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের কেউ আহত হননি বলে জানানো হয়েছে।

তবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর দাবি, জাহাজটি একটি অননুমোদিত ও বিপজ্জনক নৌপথে প্রবেশ করার পর সমুদ্রের মাইনে আঘাত করে। এতে আগুন ধরে যায় এবং শেষ পর্যন্ত জাহাজটি ডুবে যায়।

জাহাজটি কীভাবে মাইনে আঘাত করেছিল এবং এর পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বেড়েছে
হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর হামলা বৃদ্ধির মধ্যেই এ জাহাজডুবির ঘটনা ঘটল। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বাণিজ্যিক জাহাজে আইআরজিসির হামলার তীব্রতা বেড়েছে। তবে তুলনামূলকভাবে অল্পসংখ্যক জাহাজ ডুবেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডুবে যাওয়া দ্বিতীয় জাহাজ ছিল জিএফএস প্রাইড। যুদ্ধ শুরুর পর এটি তৃতীয় ডুবে যাওয়া জাহাজ। এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর হামলায় অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী ‘কেপ দাও’ জাহাজটি ডুবে যায়।

আইআরজিসির নৌবাহিনী ওই এলাকার কাছাকাছি জাহাজ চলাচলের বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে। একই সঙ্গে সমুদ্রের পানিতে ভেসে থাকা কনটেইনারের কাছে যাওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় জেলেদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

হরমুজ প্রণালি খুলতে শর্ত ইরানের
এদিকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর অঞ্চলটি ত্যাগ করার শর্ত দিয়েছে তেহরান।

শুক্রবার ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটি ছেড়ে গেলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর অংশগ্রহণে সম্মিলিত নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। এতে বৈশ্বিক অর্থনীতিও উপকৃত হবে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটি না ছাড়লে ইরানি বাহিনী তাদের সরিয়ে দেবে।

হরমুজ প্রণালির পূর্ব দিকের জলসীমায় নিরাপত্তাহীনতার জন্য ওয়াশিংটনকে দায়ী করেন আকরামিনিয়া। একই সঙ্গে জাহাজমালিকদের ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নির্ধারিত নৌপথ ব্যবহার করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর দাবি, ওই পথ অনুসরণ করলে জাহাজগুলো নিরাপদে চলাচল করতে পারবে। তবে এ দাবির স্বাধীন যাচাই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।



সাজু/নিএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *