জেলার খবর

‘জানালা ভেঙে বেরিয়ে আসি, ১০ মিনিট সময় পেলে আমার স্ত্রীও বাঁচতে পারত’

প্রকাশিত :
রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
/
৯ বার সংবাদটি দেখেছে

‘রিসোর্টে আগুন দেখে দ্রুত একটি জানালা ভেঙে সেখান দিয়ে লাফ দিয়ে বেরিয়ে আসি। কিন্তু স্ত্রী বের হতে পারেনি। আর ১০ মিনিট সময় পেলে আমার স্ত্রীও নামতে পারত।’

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে এভাবেই কান্নায় ভেঙে পড়েন আহত আশিকুল ইসলাম। আগুনের ঘটনায় স্ত্রী ও পাঁচ বছর বয়সী শিশুসন্তানসহ পরিবারের ছয় সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন তাঁর। এ ঘটনায় আশিকুল নিজে এবং তাঁর পরিবারের আরও দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে বসে ঘটনার বর্ণনা দেন আশিকুল। পরিবারের সদস্যদের হারানোর শঙ্কায় ভেঙে পড়েছেন তিনি।

আশিকুল জানান, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকা থেকে কক্সবাজার বেড়াতে এসেছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে কক্সবাজারে পৌঁছে শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে ওঠেন। শনিবার তাঁদের ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই সকালে রিসোর্টটিতে আগুন লাগে।

ঘটনার বর্ণনায় আশিকুল বলেন, সকালে তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। তাঁর স্ত্রী আগুন দেখতে পেয়ে তাঁকে ডেকে তোলেন। এরপর পাশের কক্ষে থাকা অন্য স্বজনদের ডাকতে যান তাঁর স্ত্রী। এ সময় আশিকুল দ্রুত একটি জানালা ভেঙে সেখান দিয়ে লাফ দিয়ে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। কিন্তু তাঁর স্ত্রী আর বের হতে পারেননি।

নিখোঁজ রয়েছেন পরিবারের ছয় সদস্য
আশিকুলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন তাঁর স্ত্রী ইসরাত জাহান মালিহা, শ্যালিকা লায়লা জাহান নাবিলা, শ্যালিকা মিলিতা মেহজাবিন আলভি, পাঁচ বছর বয়সী শিশু ফায়িজান আহমদ, শ্যালিকা ফারিহা কবির এবং জেরিফ।

তিনি জানান, তাঁর এক শ্যালিকার স্বামী ইফতি আগের দিন রাতে চুয়াডাঙ্গায় চলে যান। ফলে অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টে তাঁদের পরিবারের নয়জন ছিলেন। আশিকুলের সঙ্গে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন তাঁর মামাশ্বশুর মাসুদ ও মাসুদের স্ত্রী নীলা।

ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মরদেহ শনাক্তের উদ্যোগ
শনিবার দুপুর ২টার দিকে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আ. মান্নান সদর হাসপাতালে আহত ব্যক্তিদের দেখতে যান। এ সময় আশিকুল তাঁর পরিবারের নিখোঁজ সদস্যদের পরিচয় জেলা প্রশাসককে জানান।

জেলা প্রশাসক বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় সংগ্রহ করা হয়েছে। উদ্ধার করা মরদেহগুলোর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্বজনদের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

এর আগে শনিবার সকালে ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় অবস্থিত টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর পর বিকেল ৩টার দিকে তা সমাপ্ত ঘোষণা করে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

তবে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নিখোঁজ ছয়জনের কেউ উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে রয়েছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।



সাজু/নিএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *