ক্যাম্পাস

নর্দান ইউনিভার্সিটিতে ‘নবীন বরণ-২০২৬’ অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত :
শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
/
৮ বার সংবাদটি দেখেছে

উচ্চশিক্ষার আঙিনায় শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে (এনইউবি) ‘নবীন বরণ-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের কোর্টইয়ার্ড প্রাঙ্গণে আনন্দঘন পরিবেশে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নর্দান এডুকেশন গ্রুপ এন্ড প্রাসাদ গ্রুপ অফ কোম্পানির সিইও সৈয়দ আলমগীর। নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি বলেন, আজ থেকে নিজেদের একজন দায়িত্বশীল ও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার যাত্রা শুরু করতে হবে। মনে রাখবেন, সফলতার পেছনে ভাগ্য মাত্র ১ শতাংশ এবং ক্রেডিট ২ শতাংশ কাজ করে, বাকি ৯৭ শতাংশ হলো কঠোর পরিশ্রম, সততা ও টিমওয়ার্ক।

শিক্ষার্থীদের তিনটি বিশেষ গুণের ওপর জোর দিয়ে প্রধান অতিথি বলেন, আপনাদের মধ্যে কৌতূহল, সততা এবং অধ্যবসায় থাকতে হবে। কৌতূহল মেটাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সর্বদা প্রশ্ন করে জেনে নিতে হবে।

নর্দান ইউনিভার্সিটির সাথে শিক্ষার্থীদের আজীবন সম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের নাম আজ থেকে নর্দানের সাথে জড়িয়ে গেল; তাই সততা ও একতায় অবিচল থেকে পিতা-মাতার স্বপ্ন ও ত্যাগকে মূল্যায়ন করতে হবে। গ্র্যাজুয়েশন শেষে শিক্ষার্থীদের গতানুগতিক চাকরিজীবী না হয়ে ‘এন্টারপ্রেনার’ বা উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

এছাড়াও তিনি কর্মমুখী শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। উপাচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ‘২+২ মডেল’-এর প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, চার বছরের গ্র্যাজুয়েশনে দুই বছর ক্লাসরুমে এবং বাকি দুই বছর চাকরির ক্ষেত্রে প্র্যাকটিক্যাল শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের সাথে আলোচনা করা প্রয়োজন।

নবীন বরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান। নবীনদের স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, নর্দান ইউনিভার্সিটিকে বেছে নেওয়া আপনাদের জীবনের অন্যতম সেরা সিদ্ধান্ত। এই বিশ্ববিদ্যালয় আপনাদের বিশ্বমানের শিক্ষা ও অত্যাধুনিক সুবিধা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হলো নিজেকে গড়ার শ্রেষ্ঠ জায়গা। এখন আপনাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনারা শুধু বয়সে বড় হবেন, নাকি জ্ঞান ও দক্ষতায় বিকশিত হয়ে দেশ ও পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করবেন।”

বিখ্যাত সাহিত্যিক লিও টলস্টয়ের দর্শন তুলে ধরে তিনি বলেন, সবাই বিশ্বকে পরিবর্তন করার কথা ভাবে, কিন্তু নিজেকে পরিবর্তনের কথা কেউ ভাবে না। তাই সর্বপ্রথম নিজেকে পরিবর্তন করতে হবে।” তিনি শিক্ষার্থীদের বর্তমান সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার, মানুষের কল্যাণে কাজ করা এবং সামনের মানুষটিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন। শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাব, লাইব্রেরি ও অন্যান্য সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে আগামী দিনের যোগ্য নেতা হিসেবে গড়ে ওঠার দিকনির্দেশনা দেন তিনি।

অনুষ্ঠানের শেষভাগে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ ‘এনইউবি মাল্টিভার্স অলিম্পিয়াড ১.০’ প্রতিযোগিতার সমাপনী ও গালা রাউন্ডের বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে আনুষ্ঠানিক পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেন। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনইউবি ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য লাবিবা আবদুল্লাহ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের প্রধান, শিক্ষক ও কর্মকর্তাবৃন্দ।

উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. ইঞ্জি. মো. মোস্তাফিজুর রহমান অনুষ্ঠানের সার্বিক আয়োজনের দায়িত্বে ছিলেন।



বাপ্পি/সা.এ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *