জাতীয়

সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব উঠছে মন্ত্রিসভায়

প্রকাশিত :
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
/
২৬ বার সংবাদটি দেখেছে

রাজধানীর আবদুল গনি রোড থেকে আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব আগামী মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদনের জন্য তোলা হবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেলে স্থানান্তরের মূল কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীদের লটারির মাধ্যমে বদলি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

জাকারিয়া তাহের বলেন, সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে অতীতে একটি মাস্টারপ্ল্যান ছিল। সে অনুযায়ী নীতিগত কাজ ও প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। আগামী মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ বিষয়ে প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সচিবালয়ে গাড়ি পার্কিং ও জায়গার সংকট রয়েছে। অনেক মন্ত্রণালয়ের দপ্তর মূল ভবনের বাইরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এ ছাড়া সচিবালয়ের বেশির ভাগ ভবন ১৯৬০-এর দশকে নির্মিত হওয়ায় সেগুলো পুরোনো হয়ে গেছে। ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বিবেচনায় ভবনগুলোর সংস্কার ও স্থায়ী বিকল্প খোঁজা জরুরি হয়ে পড়েছে।

মন্ত্রী জানান, সব দিক বিবেচনা করে বর্তমান সরকারের মেয়াদেই সচিবালয় আগারগাঁওয়ে স্থানান্তরের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও সদিচ্ছা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণ ও স্থানান্তরের কাজ এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

গণপূর্তমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সচিবালয়ের জন্য প্রাথমিক পরিকল্পনায় প্রায় ৩০ থেকে ৩২ লাখ বর্গফুট জায়গার প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমানে সচিবালয়ে জায়গা রয়েছে প্রায় ১৫ লাখ বর্গফুট। নতুন স্থানে গেলে বর্তমানের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ জায়গা পাওয়া যাবে। তবে সচিবালয় স্থানান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৪০৯ কোটি ৪৪ লাখ ২৯ হাজার টাকা। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল চলতি বছরের নভেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তর নতুন ভবনগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করে একটি নকশা বা লে-আউট প্রস্তুত করেছে। প্রকল্পটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। অনুমোদন পেলে চলতি বছরের মধ্যেই বাস্তবায়নকাজের উদ্বোধন হতে পারে।



সাজু/নিএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *