জাতীয়

সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের

প্রকাশিত :
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
/
১২ বার সংবাদটি দেখেছে

সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকির জন্য বিরোধী দলকে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের সংসদীয় গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে ছায়া মন্ত্রিসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট আয়োজিত শরৎ উৎসব ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।

কায়সার কামাল বলেন, ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করা হলে সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করা সহজ হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে বিরোধী দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি থাকলে সরকারি কার্যক্রমের ওপর কার্যকর নজরদারি বাড়বে এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, সরকারের ভুলত্রুটি চিহ্নিত করা এবং গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সংশোধনের পথ দেখানো বিরোধী দলের অন্যতম দায়িত্ব। রাজপথের আন্দোলনের পাশাপাশি সংসদের ভেতরেও বিরোধী দলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থে সরকারি দল ও বিরোধী দলকে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাহী বিভাগের কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন ডেপুটি স্পিকার। তাঁর মতে, সততা, নীতিনিষ্ঠা ও পারস্পরিক দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হলে একটি কার্যকর সংসদীয় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে শুধু রাজনৈতিক সংস্কার যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে কায়সার কামাল বলেন, আমলাতন্ত্র, সিভিল প্রশাসন, প্রকৌশল বিভাগসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন। রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তন সম্ভব হলেও প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা না গেলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন অর্জন কঠিন হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ছাড়া বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয় করেও জনগণের কাছে প্রত্যাশিত সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই রাজনৈতিক সংস্কারের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনবান্ধব, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর করে গড়ে তুলতে হবে।

সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা ও সহায়তা কর্মসূচির সুফল জনগণের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও লালফিতার দৌরাত্ম্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সরকার নানা উদ্যোগ ও প্রণোদনা গ্রহণ করলেও বাস্তবায়ন পর্যায়ের দুর্বলতার কারণে অনেক সময় এর সুফল যথাযথভাবে পৌঁছায় না। নীতিনির্ধারকেরা উদ্যোগ নিলেও প্রশাসনিক জটিলতা ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতার কারণে প্রত্যাশিত ফল অর্জন বাধাগ্রস্ত হয়।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রশাসনিক ব্যবস্থার সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সরকারি সেবা ও সহায়তা কার্যক্রমের কার্যকারিতা বাড়িয়ে সেগুলোর সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, প্রশাসন ও নাগরিক সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান কায়সার কামাল। তিনি মনে করেন, দায়িত্বশীল বিরোধী দল, জবাবদিহিমূলক সরকার এবং কার্যকর সংসদীয় ব্যবস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমেই একটি উন্নত ও সুশাসনভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।



কুশল/সাএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *