ধর্ম ও জীবন

জুমার দিনে যে দুই সময়ে দোয়া কবুলের আশা বেশি

প্রকাশিত :
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬
/
৯ বার সংবাদটি দেখেছে

সপ্তাহের প্রতিটি দিনই মহান আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহ লাভের সুযোগ। তবে কিছু দিন ও মুহূর্ত রয়েছে, যেগুলো বিশেষ মর্যাদায় ভূষিত। তেমনই একটি বরকতময় দিন হলো জুমাবার। মুসলমানদের সাপ্তাহিক ইবাদত, সমাবেশ ও আত্মশুদ্ধির এ দিনে রয়েছে দোয়া কবুলের বিশেষ একটি মুহূর্ত। এ সময় কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করলে তিনি তার দোয়া কবুল করেন।

তাই জুমাবার শুধু জুমার নামাজ আদায়ের দিন নয়, বরং নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা চাওয়া, দুঃখ-কষ্টের কথা মহান রবের কাছে তুলে ধরা এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ কামনারও বিশেষ সুযোগ।

জুমাবারের মর্যাদা ও গুরুত্ব

পবিত্র কোরআনে ‘জুমুআ’ নামে একটি স্বতন্ত্র সুরা রয়েছে। এ সুরার নবম আয়াতে আল্লাহ তাআলা জুমার নামাজের আহ্বান শোনার পর দুনিয়াবি ব্যস্ততা ছেড়ে তাঁর স্মরণের দিকে এগিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও।’ (সুরা জুমুআ, আয়াত: ৯)

জুমাবারের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সূর্য উদিত হয় এমন দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো জুমাবার। এ দিনেই আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং সেখান থেকে বের করা হয়েছে। আর কিয়ামতও সংঘটিত হবে জুমাবারে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫৪)

এ দিনের মর্যাদা উপলব্ধি করে একজন মুমিনের উচিত জুমার নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ পাঠ, জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে সময়টিকে অর্থবহ করে তোলা।

জুমার দিনে দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত

জুমাবারের অন্যতম ফজিলত হলো, এ দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করলে তিনি তাকে তা দান করেন।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, কোনো মুসলিম সে মুহূর্তে আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করলে তিনি তাকে তা দান করেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫২)

দোয়া কবুলের সেই বিশেষ মুহূর্তটি ঠিক কখন, তা নিয়ে আলেমদের মধ্যে একাধিক মত রয়েছে। তবে হাদিসের বর্ণনার ভিত্তিতে দুটি সময়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

১. ইমাম মিম্বরে বসা থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত

জুমার খুতবার সময় এবং নামাজ চলাকালীন সময়কে দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে জুমার দিনের বিশেষ মুহূর্ত সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, তা হলো ইমাম মিম্বরে বসার সময় থেকে নামাজ শেষ করা পর্যন্ত। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৯)

এ সময় মুমিনের কর্তব্য হলো মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা এবং যথাযথভাবে নামাজ আদায় করা। খুতবার সময় কথা বলা বা এমন কোনো কাজে ব্যস্ত হওয়া উচিত নয়, যা খুতবা শোনায় ব্যাঘাত ঘটায়। বরং ইবাদতের প্রতি মনোযোগী থেকে আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা কামনা করা উচিত।

২. আসরের পর থেকে সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত

জুমার দিনে দোয়া কবুলের বিশেষ সময় হিসেবে আসরের নামাজের পর থেকে সূর্যাস্তের আগের সময়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে দিনের শেষ ভাগে আল্লাহর জিকির, ইস্তিগফার ও দোয়ায় সময় কাটানো উত্তম।

জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনের বিশেষ মুহূর্তের কথা উল্লেখ করে তা আসরের পরের শেষ সময়ে অনুসন্ধান করতে বলেছেন। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৮)

তাই এ সময় অবহেলায় কাটিয়ে না দিয়ে নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা চাওয়া, ঈমানের ওপর অবিচল থাকার প্রার্থনা করা, পরিবার-পরিজনের কল্যাণ কামনা করা এবং দুনিয়া ও আখিরাতের প্রয়োজনগুলো আল্লাহর কাছে তুলে ধরা যেতে পারে।

জুমার দিনের মূল্যবান সময় কাজে লাগানো জরুরি

জুমাবার মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মুমিনদের জন্য এক মহামূল্যবান উপহার। এ দিনে দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত থাকার বিষয়টি একজন মুসলিমকে আল্লাহর রহমতের প্রতি আশাবাদী করে এবং তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার অনুপ্রেরণা জোগায়।

কিন্তু দুনিয়ার ব্যস্ততায় অনেক সময় আমরা এ দিনের মূল্যবান মুহূর্তগুলো অবহেলায় কাটিয়ে দিই। তাই জুমার দিনকে শুধু আনুষ্ঠানিক ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বেশি বেশি দরুদ পাঠ, জিকির, ইস্তিগফার ও দোয়ায় সময় কাটানো উচিত।

মহান আল্লাহ আমাদের দোয়া কবুল করুন, গুনাহ ক্ষমা করুন এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ দান করুন। আমিন।



কুশল/সাএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *