
সংকট থেকে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশ
সৈয়দ তাজুল ইসলাম:
বাংলাদেশের বিভিন্ন নদী, খাল ও জলাশয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে আক্রমণাত্মক প্রজাতির সাকারমাউথ ক্যাটফিশ (Suckermouth Catfish)। একসময় অ্যাকুয়ারিয়ামের মাছ হিসেবে পরিচিত এই প্রজাতি এখন দেশের উন্মুক্ত জলাশয়ে পরিবেশ ও দেশীয় মৎস্যসম্পদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০২৬ সালের সাম্প্রতিক মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদনে শীতলক্ষ্যাসহ বিভিন্ন জলাশয়ে জেলেদের জালে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সাকার মাছ ওঠার তথ্য পাওয়া গেছে। জেলেদের অভিযোগ, সাকার মাছের কারণে জাল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং দেশীয় মাছের প্রাপ্যতাও কমছে।
সাকার মাছ নিয়ন্ত্রণে সরকার আগেই এ মাছের আমদানি, চাষ, পরিবহন, বিক্রি, সরবরাহ ও সংরক্ষণ নিষিদ্ধ করেছে। বদ্ধ জলাশয়ে সাকার মাছ পাওয়া গেলে তা জাল দিয়ে ধরে বা জলাশয় শুকিয়ে অপসারণ ও ধ্বংস করার নির্দেশনাও রয়েছে। একই সঙ্গে এর বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গবেষণার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২০২৬ সালে দেশের মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সরকার ৬৬৯টি মাছের অভয়াশ্রম, sanctuary-management guideline এবং বিভিন্ন জলজ সম্পদ সংরক্ষণ কর্মসূচির কথা জানিয়েছে। ২০২৬–২৭ অর্থবছরে মৎস্য খাতে ৬০৪.৬৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
২০২৬ সালের ২৩ মার্চ প্রকাশিত একটি বাংলাদেশি গবেষণায় বুড়িগঙ্গা থেকে সংগ্রহ করা সাকার মাছকে fishmeal হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা পরীক্ষা করা হয়েছে। গবেষণায় সাকার মাছের পুষ্টিমান, উৎপাদন খরচ এবং দূষণ—সবগুলো বিষয় বিশ্লেষণ করা হয়।
গবেষণায় সাকার মাছের meal উৎপাদনের খরচ প্রচলিত fishmeal-এর তুলনায় কম হওয়ার সম্ভাবনা পাওয়া গেছে। তবে মাছের নমুনায় কিছু pesticide residue ও malachite green পাওয়া যাওয়ায় feed হিসেবে ব্যবহারের আগে কঠোর safety testing প্রয়োজন বলে গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে।
সাকার মাছের হাড় ও mineral fraction ব্যবহার করে bone/mineral meal বা fertilizer তৈরির সম্ভাবনাও গবেষণায় আলোচিত হয়েছে। তবে বাংলাদেশে বড় আকারে commercial fertilizer production এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ের বিষয়; সরাসরি নদীর মাছ শুকিয়ে কৃষিজমিতে ব্যবহার করা নিরাপদ নয়।
ধরা যাক, ভবিষ্যতে বছরে ১ লাখ টন কাঁচা সাকার মাছ সংগ্রহ করা সম্ভব হলো এবং তার প্রায় ২০ শতাংশ processed meal পাওয়া গেল। তাহলে প্রায় ২০ হাজার টন meal তৈরি হতে পারে।
প্রতি কেজি ৬৫ টাকা বিক্রয়মূল্য ধরে সম্ভাব্য gross sales হবে প্রায়:
১৩০ কোটি টাকা।
Processing, drying, শ্রম, পরিবহন, বিদ্যুৎ, testing ও packaging মিলিয়ে প্রতি কেজি ৩০ টাকা ব্যয় ধরে মোট processing cost হতে পারে প্রায়:
৬০ কোটি টাকা।
সে ক্ষেত্রে কাঁচা মাছ বিনামূল্যে পাওয়া গেলে সম্ভাব্য operating profit:
জেলেদের কাছ থেকে কাঁচা মাছ কিনতে হলে profit কমবে। উদাহরণস্বরূপ, কাঁচা মাছের জন্য প্রতি কেজি ১০ টাকা দিলে সম্ভাব্য profit প্রায় ৬০ কোটি টাকা, আর ২০ টাকা দিলে প্রায় ৫০ কোটি টাকা হতে পারে।
এগুলো সম্ভাব্য scenario, নিশ্চিত জাতীয় আয় নয়।
সাকার মাছ নিয়ন্ত্রণে সফল হলে সংগ্রহ করা biomass-কে ফেলে না দিয়ে নিরাপদভাবে processing করা যেতে পারে। মাছের মাংস থেকে fishmeal, হাড় থেকে mineral/bone meal এবং অন্যান্য অংশ থেকে মূল্য সংযোজিত পণ্য তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।
এতে একদিকে জলাশয় থেকে invasive মাছ অপসারণ, অন্যদিকে জেলেদের অতিরিক্ত আয়, processing industry, কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে পুরো উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে সাকার মাছের প্রকৃত প্রাপ্যতা, সংগ্রহ খরচ, processing yield, বাজারদর এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও safety testing-এর ওপর।
বাংলাদেশে বর্তমানে সাকার মাছকে বড় আকারে commercial industry হিসেবে ব্যবহার করার পর্যায়ে পৌঁছানো হয়নি। কিন্তু ২০২৬ সালের গবেষণাগুলো দেখাচ্ছে, পরিবেশগত সংকট হিসেবে দেখা এই মাছকে নিয়ন্ত্রিত ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তরের সম্ভাবনা রয়েছে।
মন্তব্য
0 টি মন্তব্য