
বরিশালে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ, নিন্দা
দক্ষিণ টিভি | স্টাফ করেসপন্ডেন্ট : বরিশাল নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে দৈনিক বরিশাল মুখপত্রের বার্তা সম্পাদক সাংবাদিক আসাদুজ্জামান মুরাদ ও যুগ্ম বার্তা সম্পাদক সাইফুল অপূর্বর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের অভিযোগ, সংঘর্ষের ভিডিও ধারণের সময় বিএনপি নেতা পরিচয় দেওয়া বাবুল মোহরীর নেতৃত্বে শতাধিক ব্যক্তি তাদের ঘিরে ধরেন। এ সময় হামলাকারীরা তাদের ‘ভুয়া সাংবাদিক’ ও ‘আওয়ামী লীগের লোক’ আখ্যা দিয়ে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাদের মোবাইল ফোন নিয়ে সংঘর্ষের ধারণ করা ভিডিও মুছে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্বের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলে গিয়ে আসাদুজ্জামান মুরাদ ও সাইফুল অপূর্ব সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীদের মধ্যে নিজেদের ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরাও ছিলেন। তবে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় ও ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের দাবি, সংঘর্ষের প্রকৃত চিত্র যাতে প্রকাশ না পায়, সে উদ্দেশ্যেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং ধারণ করা ভিডিও মুছে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে তাদের জড়িয়ে অপবাদ দিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
ঘটনার পর সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কোনো রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের তথ্য বা ভিডিও ধারণের কারণে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, তাদের পেশাগত পরিচয় নিয়ে অপমান এবং সংবাদ-প্রমাণ মুছে দেওয়ার অভিযোগকে গুরুতর হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে হামলার সময়কার ভিডিও ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে।
এদিকে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন বরিশালের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য
0 টি মন্তব্য