
তরুণ নেতৃত্বে বরিশাল মহানগর ছাত্রদলকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়ে এনামুল হাসান তাসনিম
বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের নতুন আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর সংগঠনকে আরও সক্রিয়, সুসংগঠিত ও জনসম্পৃক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এমডি এনামুল হাসান তাসনিম। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মহানগর ছাত্রদলকে তৃণমূল পর্যন্ত আরও গতিশীল করে গড়ে তোলাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য বলে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে জানিয়েছেন তিনি।
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ঘোষিত নতুন আহ্বায়ক কমিটিতে এনামুল হাসান তাসনিমকে বরিশাল মহানগর শাখার আহ্বায়ক এবং মো. নাভিদ রহমান খান তুষারকে সদস্য সচিব করা হয়। নতুন নেতৃত্ব ঘোষণার পর মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ তৈরি হয় এবং বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিট থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।
দায়িত্ব পাওয়ার পর তাসনিমের বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে সংগঠনকে মাঠপর্যায়ে শক্তিশালী করা। তিনি দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন, নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি ছাত্রদলকে সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।
তাঁর নেতৃত্বে তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগও দৃশ্যমান হয়েছে। মহানগরের ২৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, তৃণমূল পর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়। সেখানে তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
শুধু সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেই নয়, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগেও তাঁর সম্পৃক্ততার খবর পাওয়া যায়। বিএম কলেজে আয়োজিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফাইনালে তাঁকে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকার খবর প্রকাশিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মেধা, যুক্তিবোধ ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করার দিকটিও তাঁর প্রকাশ্য কর্মকাণ্ডে গুরুত্ব পেয়েছে।
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক সহাবস্থানের বিষয়েও তাসনিমের বক্তব্য সামনে এসেছে। বিভিন্ন আয়োজনে তিনি ধর্মীয় স্বাধীনতা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং উৎসবের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
এদিকে সংগঠনের ভাবমূর্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়েও তাঁর অবস্থান স্পষ্ট। সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, হামলা, ভাঙচুর কিংবা নারীর প্রতি সহিংসতার মতো কর্মকাণ্ডকে সংগঠন সমর্থন করে না এবং কোনো ব্যক্তি সংগঠনের নাম ব্যবহার করে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর পথচলাও দীর্ঘদিনের বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদনে তাঁকে বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে নতুন আহ্বায়ক কমিটিতে দায়িত্ব পাওয়ার মধ্য দিয়ে মহানগর ছাত্রদলের নেতৃত্বে তাঁর অবস্থান আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
নতুন দায়িত্বকে সামনে রেখে এনামুল হাসান তাসনিমের মূল লক্ষ্য এখন সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করা, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সক্রিয় করা এবং শিক্ষার্থী ও তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা। তাঁর সাম্প্রতিক কার্যক্রম ও বক্তব্যে অন্তত এমন একটি সাংগঠনিক দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। ফলে নতুন নেতৃত্বে বরিশাল মহানগর ছাত্রদল কতটা কার্যকর ও গতিশীল হয়ে উঠবে, সেটিই এখন সংগঠনের নেতাকর্মী ও পর্যবেক্ষকদের আগ্রহের বিষয়।
মন্তব্য
0 টি মন্তব্য