স্পোর্টস

বদলে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এই ১০টি নিয়ম

প্রকাশিত :
শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬
/
১৭ বার সংবাদটি দেখেছে

ক্রিকেটের নিয়মে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। সময় নষ্ট ঠেকানো, বলের মাপ ও ওজন নির্ধারণ, ফিল্ডিং এবং ওভারথ্রোর ব্যাখ্যাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম যুক্ত করা হয়েছে। ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে এসব পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে।

১ অক্টোবর বা এর পর শুরু হওয়া সব আন্তর্জাতিক সিরিজে নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে। তবে এর আগে শুরু হওয়া সিরিজগুলো পুরোনো নিয়মেই শেষ হবে। অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার আসন্ন বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ সিরিজেও নতুন নিয়ম কার্যকর থাকবে।

পুরুষ ও নারী ক্রিকেটের সব ফরম্যাটের হালনাগাদ নিয়ম আইসিসির ‘রুলস অ্যান্ড রেগুলেশনস’ অংশে প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) ক্রিকেট আইনে ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া পরিবর্তনগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আইসিসির পুরুষ ক্রিকেট কমিটির সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলী বলেন, খেলার শর্তে ক্রিকেট বল, ফিল্ডিং এবং খেলার গতি বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। তার মতে, আধুনিক ক্রিকেটের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি খেলার সততা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এসব পরিবর্তন করা হয়েছে।

সব ফরম্যাটে যে পরিবর্তনগুলো

১. ব্যাটারের সময় নষ্টে শাস্তি

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাটার বল খেলার জন্য প্রস্তুত না হলে প্রথমবার সতর্ক করা হবে। দ্বিতীয়বার দেওয়া হবে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা। তৃতীয়বার এবং এরপর প্রতিবার এমন হলে ফিল্ডিং দল ৫ রান পাবে। একই ধরনের অপরাধ বারবার হলে আচরণবিধির আওতায়ও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

২. নারী ও জুনিয়র ক্রিকেটে বলের মাপ নির্দিষ্ট

নারী ও জুনিয়র ক্রিকেটে ব্যবহৃত বলের মাপ ও ওজনের ক্ষেত্রে নতুন সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে পুরুষ, নারী ও জুনিয়র ক্রিকেটের জন্য বলের মাপ ও ওজনের পৃথক মান থাকবে।

৩. ওভারথ্রোর সংজ্ঞা স্পষ্ট

স্টাম্পের দিকে বল ছুড়ে রান আটকানো বা রানআউটের চেষ্টা করা হলে সেটিকে ওভারথ্রো হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে বল থামাতে গিয়ে ফিল্ডারের ভুল বা অন্য ফিল্ডারের কাছে বল দিতে গিয়ে ভুল হলে তা ওভারথ্রো হিসেবে বিবেচিত হবে না।

৪. বল ‘ডেড’ হওয়ার সিদ্ধান্তে আম্পায়ারের ক্ষমতা বাড়ল

বল কখন পুরোপুরি ‘ডেড’ হয়েছে, সে বিষয়ে আম্পায়ারকে আরও স্পষ্ট সিদ্ধান্তের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে শেষ বলের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন প্রভাব ফেলতে পারে। এখন বল বোলার বা উইকেটকিপারের হাতে থাকতেই হবে—এমন বাধ্যবাধকতা থাকছে না।

৫. রানআউট ও স্টাম্পিংয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ স্পষ্ট

রানআউট বা স্টাম্পিংয়ের সময় ফিল্ডারের হাতে বল রয়েছে বলে গণ্য করতে হলে তাকে বলের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। স্টাম্প ভাঙার সময় শুধু হাতের সঙ্গে বলের সামান্য সংযোগ থাকলেই সেটিকে বলের নিয়ন্ত্রণ হিসেবে ধরা হবে না।

টেস্ট ক্রিকেটে নতুন নিয়ম

৬. দিনের টেস্টে গোলাপি বল ব্যবহারের সুযোগ

খারাপ আলোর কারণে খেলা ব্যাহত হওয়া কমাতে দিনের বেলার টেস্টে পরীক্ষামূলকভাবে গোলাপি বল ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে দুই দলকে সম্মত হতে হবে এবং টেস্ট শুরুর আগেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

একবার গোলাপি বল ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে পুরো ম্যাচে একই বল ব্যবহার করতে হবে। ম্যাচ শুরুর পর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা যাবে না। একইভাবে লাল বল থেকে মাঝপথে গোলাপি বলে পরিবর্তনের সুযোগও থাকবে না।

৭. দিনের শেষ ওভারে উইকেট পড়লেও ওভার শেষ করতে হবে

দিনের শেষ ওভারে উইকেট পড়ে গেলেও আবহাওয়া ও অন্যান্য পরিস্থিতি খেলার উপযোগী থাকলে ওই ওভার শেষ করতে হবে। আগের নিয়মে উইকেট পড়ার সঙ্গে সঙ্গে দিনের খেলা শেষ হয়ে যেত এবং বাকি বল পরের দিন করতে হতো। নতুন নিয়মে সেই পরিস্থিতি এড়ানো হবে।

ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে পরিবর্তন

৮. টি-টোয়েন্টিতে বিরতি ১৫ মিনিট

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ইনিংসের মধ্যবর্তী বিরতি ১৫ মিনিট নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ম্যাচে সময় নষ্ট হলে এই বিরতি কমিয়ে সর্বনিম্ন ১০ মিনিট করা যাবে।

৯. ড্রিংকস ব্রেকে কোচ মাঠে যেতে পারবেন

ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে ড্রিংকস ব্রেকের সময় হেড কোচ অথবা তার মনোনীত প্রতিনিধি মাঠে প্রবেশ করতে পারবেন। এর মাধ্যমে দুই ফরম্যাটে নিয়মের মধ্যে সামঞ্জস্য আনা হয়েছে।

১০. ওয়াইডের নিয়ম স্থায়ী হলো

ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওয়াইড বলের নতুন নিয়মকে স্থায়ী করা হয়েছে। আগে এটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু ছিল।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বল করার মুহূর্তে ব্যাটারের পায়ের অবস্থানকে ওয়াইড নির্ধারণের মাপকাঠি হিসেবে ধরা হবে। বল করার আগে বা বল করার সময় ব্যাটার নড়াচড়া করে অফ সাইডের দিকে সরে গেলেও পরে তার অবস্থান বিবেচনা করা হবে না। ব্যাটার বল ছাড়ার মুহূর্তে যেখানে ছিলেন, সেই অবস্থানই ওয়াইড নির্ধারণে প্রাসঙ্গিক হবে।

আইসিসির মতে, এসব পরিবর্তনের লক্ষ্য হলো খেলার গতি বাড়ানো, নিয়মের ব্যাখ্যায় স্পষ্টতা আনা এবং আধুনিক ক্রিকেটের সঙ্গে খেলার শর্তগুলোকে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।



কুশল/সাএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *