অন্যান্য...

পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা, কে এই ‘লেডি বাইকার’

প্রকাশিত :
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
/
১০ বার সংবাদটি দেখেছে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোটরসাইকেল চালানোর বিভিন্ন ভিডিও প্রকাশ করে পরিচিতি পেয়েছেন মোসা. স্বপ্না ওরফে সুমাইয়া সুমু। অনলাইনে ‘লেডি বাইকার’ হিসেবে পরিচিত এই নারী বাইকার এবার আলোচনায় এসেছেন পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে কারাদণ্ড পাওয়ার ঘটনায়।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ৩০০ ফিট পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়েতে উল্টো পথে মোটরসাইকেল চালানো এবং কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্টের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে সুমাইয়া সুমু ও তার স্বামীকে সাত দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বাইকিংয়েই পরিচিতি
সুমাইয়া সুমু নিজেকে ‘লেডি বাইকার’ নয়, বরং শুধু ‘বাইকার’ হিসেবে পরিচয় দিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়ানো এবং বাইক চালানোর নানা মুহূর্তের ভিডিও নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন তিনি।

ঢাকার বিভিন্ন সড়কে মাস্ক কিংবা হেলমেট পরে মোটরসাইকেল চালানোর ভিডিও রয়েছে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কখনো ব্যস্ত নগর সড়কে, আবার কখনো দেশের বিভিন্ন স্থানে মোটরসাইকেল নিয়ে অ্যাডভেঞ্চারধর্মী ভ্রমণের দৃশ্যও অনুসারীদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন তিনি।

তার ভিডিওগুলোর কিছুতে মোটরসাইকেল চালানোর সময় দুই হাত ছেড়ে দেওয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কৌশল দেখাতেও দেখা গেছে। এসব কৌশল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনাও হয়েছে।

অভিনয় ও মডেলিংয়েও ছিলেন
মোটরসাইকেল চালানোর পাশাপাশি অভিনয় ও মডেলিংয়ের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন সুমাইয়া। ২০২১ সালে বিনোদন অঙ্গনে যাত্রা শুরু করে কয়েকটি নাটক ও মিউজিক ভিডিওতে অভিনয় করেন তিনি। তবে ২০২৩ সালের শেষ দিকে অভিনয় থেকে সরে আসেন।

এরপর মোটরসাইকেল নিয়ে ভ্রমণ, বিভিন্ন মডেলের বাইক চালানো এবং অ্যাডভেঞ্চারধর্মী ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেন তিনি।

যেভাবে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা
ট্রাফিক বাড্ডা জোন সূত্রের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ের একটি পয়েন্ট দিয়ে সুমাইয়া ও তার স্বামী উল্টো পথে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক সার্জেন্ট তাদের থামার সংকেত দেন।

মোটরসাইকেল থামানোর পর উল্টো পথে চলাচলের কারণ জানতে চান সার্জেন্ট এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তখন মোটরসাইকেলের দুই আরোহী সার্জেন্টের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়াতে দেখা যায়। একপর্যায়ে নারী আরোহী সার্জেন্টের সঙ্গে উত্তেজিতভাবে কথা বলেন এবং তাকে লক্ষ্য করে তেড়ে যাওয়ার মতো আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

পরে সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক সার্জেন্টের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়।

৭ দিনের কারাদণ্ড
পরে সুমাইয়া ও তার স্বামীকে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাদের প্রত্যেককে সাত দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দেন এবং কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে শালীন আচরণ নিশ্চিত করতে নিয়মিত কার্যক্রম চলছে। ট্রাফিক আইন অমান্য, সরকারি কাজে বাধা কিংবা দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যের সঙ্গে অসদাচরণের ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



সাজু/নিএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *