সারাবিশ্ব

সমঝোতার আভাসে কমল তেলের দাম

প্রকাশিত :
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
/
২৭ বার সংবাদটি দেখেছে

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ বাড়ায় বিশ্ববাজারে শুক্রবার তেলের দাম কিছুটা কমেছে। তবে সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় ইয়েমেনের হুতিদের হামলার আশঙ্কা থাকায় বাজারে এখনও উদ্বেগ রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার গ্রিনিচ মান সময় ২টা ১২ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৮৭ সেন্ট বা ০.৮২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৭৩ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ ডলার ৫৬ সেন্ট বা ১.৬৫ শতাংশ কমে ৯৩ দশমিক ৫ ডলারে নেমে আসে।

এর আগে বৃহস্পতিবার উভয় বেঞ্চমার্কের দাম প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল। দিন শেষে ব্রেন্টের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়ে। ব্রেন্টের দাম ১৫ সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে।

রয়টার্স জানায়, আগের ছয় কার্যদিবসে ডব্লিউটিআইয়ের দাম প্রায় ১৩ শতাংশ কমেছিল। চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত ডব্লিউটিআই ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ কমলেও ব্রেন্টের দাম বেড়েছে ২ দশমিক ০৯ শতাংশ।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনাও তেলের বাজারে প্রভাব ফেলছে। নিউইয়র্কে দুই দেশের আলোচকরা যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার একটি ধাপে ধাপে পথ নিয়ে আলোচনা করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স। এর আওতায় ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেবে—এমন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে মার্চে তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছিল।

এদিকে বৃহস্পতিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেন, যুদ্ধ কখন শেষ হবে, সেই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে।

অন্যদিকে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চল ও লোহিত সাগরের ইয়ানবু এলাকায় ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।

বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলো এখনও হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে—হুতিদের চলমান হামলা তারই স্পষ্ট অনুস্মারক।

এদিকে সৌদি আরব লোহিত সাগরের তীরবর্তী ইয়ানবু রপ্তানি কেন্দ্রে তেল সরবরাহকারী ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল পাম্প করার পরিমাণ বাড়াচ্ছে। তবে অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারে পণ্য তোলার কার্যক্রম এখনও শুরু হয়নি বলে শিল্প খাতের বিভিন্ন সূত্র, স্যাটেলাইট ছবি ও নৌপরিবহন তথ্যের বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স।



সাজু/নিএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *